![]() |
Home | Articles | About | Contact |
|
বিশ্বনাগরিক কবি দিলওয়ার
বিশ্বনাগরিক কবি দিলওয়ার ফরীদ আহমদ রেজা পদ্মা তোমার যৌবন চাই/ যমুনা তোমার প্রেম/ সুরমা তোমার কাজল বুকের/ পলিতে গলিত হেম/ সাগর দুহিতা এই বাংলার/ নিশিগন্ধার রাতে/ ঊর্মিদোদুল জনক আমার/ মিলেছে মায়ের সাথে/ সূর্যমুখীর সহদোরা এই/ নারীর গর্ভকোষে/ বাংলার আমি জন্ম নিয়েছি/ জারিত স্বর্ণরসে/ ..... পদ্মা সুরমা মেঘনা যমুনা/ অশেষ নদী ও ঢেউ/ রক্তে আমার অনাদি অস্থি/ বিদেশে জানেনা কেউ। (রক্তে আমার অনাদি অস্থি) গণমানুষের গাণ এবং গণমানুষের মুক্তির কথা বাংলা সাহিত্যে কবি দিলওয়ারের আগে আরো অনেকে বলেছেন। তাদের মধ্যে নজরুল, সুকান্ত, ফররুখ এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কথা আমরা সবাই জানি। রুশ কবি মায়াকোভস্কি লেলিনের উদ্দেশ্যে বলেছেন, 'ভমষ'্র ভমর্ ধবণ তমর ট ফমশণর টভঢ দধ্র ফট্র্র'. বলতে গেলে মায়াকোভস্কির অনুকরনেই যেন সুভাষ মুখোপধ্যায় বলেন, 'প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য'। সুভাষ মুখোপধ্যায় মেহনতি মানুষের জয়গান করতে গিয়ে শ্লোগানের ছন্দে বলেন,- ডাকে বান, ভাঙে বাঁধ - / হাতে দাও হাত ভাই/ ...আনো দিন হাতুড়ির/ আনো দিন কাস্তের/ খাদ্যের শিল্পের শিক্ষার স্বাস্থ্যের।' সুকান্ত আরো এগিয়ে গিয়ে লেনিনকে মেহনতি মানুষের মুক্তির প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, 'বিপ্লব স্পন্দিত বুকে মনে হয় আমি-ই লেনিন।' সুকান্ত তেজোদীপ্ত কন্ঠে মজুতদারদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'শোনরে মালিক শোনরে মজুতদার/ তোদের প্রাসাদে জমা হলো কতো/ মৃত মানুষের হাড়? হিসাব কি দিবি তার? একই ভাবে শ্রমজীবী মানুষের মুখে হাসি ফুটাবার আকাঙ্খা বুকে নিয়ে কবি দিলওয়ারও তার কবিতায় লেনিনকে বার বার টেনে এনেছেন। কিন্তু তা করতে গিয়ে কবিতার কলা-কৌশলের সাথে তিনি আপোস করেননি। বরং তাঁর মধ্যে সেখানে আমরা একটা পরিপক্ষ পরিমিত বোধ লক্ষ্য করি। কবি দিলওয়ার শুধু বাংলাদেশের নয়, পৃথিবীর তাবৎ মেহনতি মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখেন এবং এ প্রসঙ্গ ঘুরে ফিরে বিভিন্ন ভাবে তাঁর কবিতায় ও গানে এসেছে। 'অমোঘ সত্য' কবিতায় কবি উচ্চারণ করেনঃ অমোঘ সত্য, পৃথিবী এখন/ লেলিনের হাত ধরে/ অমাবস্যার আঁধারে লুকানো/ খুঁজছে দীপিত তারা,/ আনছে শানিত ঘুম ভাঙার/ অজেয় রশ্মিধারা/ ঘাতিনী রাতের রক্তোন্মাদ/ দেহ অভ্যন্তরে। ...... পৃথিবী এখন লেনিনের বুকে পেতেছে আপন কান,/ রুধিরে পেয়েছে চির মানবিক মায়ের অঙ্গীকার/ মানুষ লেনিন, সে যে তারি এক অনন্য সন্তান,/ প্রতিটি বিন্দু ক্লান্ত রক্তে মার্কসীয় ঝংকার। .... (একটি অমোঘ সত্যঃ উদ্ভিন্ন উল্লাস) কবি দিলওয়ার তাঁর কবিতায় মানব সমাজের কথা বলেছেন। তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় হচ্ছে মানুষ, মানুষের মনোজগত, মানুষ হিসেবে মানুষের সংগ্রাম ও সাধনা এবং মানুষের সুখ-দুখ। তিনি যখন বাংলাদেশের মানুষের কথা বলেছেন তখন উপমা-উৎপ্রেক্ষা টেনেছেন বাংলার সাধারণ মানুষকে ঘিরে। তাঁর চিত্রকল্পে সাধারণ মানুষ এবং তাদের অনুষঙ্গই বিম্বিত হয়েছে। তবে সাথে সাথে বাংলার অনুষঙ্গকে তিনি অবলীলায় এবং আশ্চর্য নিপুনতায় বিশ্বমাত্রিক বলয়ে চিত্রিত করেছেন। অসাম্প্রদায়িকতা বাংলার ঐতিহ্য এবং কবি দিলওয়ার বাংলাদেশের সে ঐতিহ্যকে গাভীর দুধের সাথে তুলনা করেন। দুধের মতো অসাম্প্রদায়িক হৃদয় বুকে ধারণ করে তিনি তা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চান। 'মাইকেল এঞ্জেলোঃ কৃষাণ বাংলা' শীর্ষক কবিতায় কবি বলেনঃ পিপাসায় রুধিরাক্ত ধানক্ষেতে অবিরাম কোদালে কৌলিন/ কৃষাণের প্রত্যাশার চলোর্মিতে ভেসে ভেসে/ মন ছুটে যায় দূরে মধ্য ইতালীর সেই কলকণ্ঠী/ টাইবার নদীর তীরে, যেখানে সুবর্ণ অতীতে একদিন/ জন্ম নিয়েছিলো এক স্থাপত্যের শিশুকাল, অনন্য সুন্দর/ ....... যেমন অঘ্রাণে ধান্যে স্বপ্নেরা জীবন হয়ে যায়/ কৃষাণেরা হয়ে উঠে যেন বা স্থপতি মাইকেল এঞ্জেলো/ ..... মানবীর গর্ভজাত দুলালী হেলেন ক্রমে কৃষাণী সখিনা/ চন্দ্রাবতী তার হাতে তুলে দেয় লালমুখী একটি গোলাপ/ দুজনেই একজন নিসর্গের প্রিয় শিল্প; গণদেবতার - / ভালোবাসা সমাকীর্ণ জীবনের দেবালয়ে, স্বর্গ, বাংলাদেশ/ গণবাংলাদেশ। সকল মহৎ শিল্পী-ই স্বদেশ এবং স্বজাতির প্রতি একটি অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করেন, কবি দিলওয়ারও এখানে ব্যতিক্রম নয়। তাঁকে আমরা শিল্পের জন্যে শিল্প সৃষ্টি না করে মানুষের জন্যে শিল্প সৃষ্টির প্রয়াসী হিসেবে দেখতে পাই। কবি বিভিন্ন সময় গদ্যে ও কবিতায় কবিতা সম্পর্কে তাঁর নিজের অনুভব প্রকাশ করেছেন। স্বনিষ্ঠ সনেটে গ্রন্থিত 'কবিতার অন্য নাম' শীর্ষক কবিতায় কবি বলেনঃ কবিতার অন্য নাম কালোত্তীর্ণ পঠিত মানুষ/ তার ইতিহাস আছে, যেন বা সমুদ্র সুগভীর/ অন্তরে তরঙ্গময় নিসর্গলালিত রণবীর/...... আজন্ম প্রগতিশীল দুর্যোগে দুর্দিনে ঐশ্বরিক/ মেধায় স্বয়ংক্রিয় প্রকৃতির গবেষণাগারে/ বসন্ত রোপন করে অতলান্ত শোকের ভাগাড়ে/ কাল থেকে কালান্তরে নির্বিকার সে আছে শরিক। ..... কবিতা আবহমান প্রগতির প্রিয় পদাতিক। কবি দিলওয়ারের কাব্যপ্রেম তাঁর সমসাময়িক অনেক নাগরিক কবির মতো তাঁকে গণমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন কোন দ্বীপের বাসিন্দা করতে পারেনি। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে থেকে নিজেকে কখনো বিচ্ছিন্ন ভাবেননি। কলাম, গান এবং কবিতা নিয়ে তিনি গণমানুষের বিভিন্ন অধিকার আদায়ের মিছিলে শামিল থেকেছেন। তাঁর গান ও কবিতা স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে মানুষকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে এবং জীবন ও সম্পদ বাজি রেখে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাই কবি দিলওয়ারের স্বদেশ প্রেম এবং দেশের মানুষের প্রতি ভালবাসা নিছক আবেগের সমুদ্র বা ভাষার কচকচানি নয়। তাঁর কবিতার যে কোন পাঠকই সেখানে একটি বলিষ্ঠ অঙ্গীকার প্রত্যক্ষ করবেন। সমাজ সচেতন কবি হিসেবে তাঁর কবিতায় সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রসঙ্গ বার বার ঘুরে ফিরে এসেছে। তবে কবি হিসেবে তাঁর এখানেই সাফল্য যে তিনি কবিতাকে রাজনৈতিক কোলাহল থেকে মুক্ত রেখে রাজনৈতিক অভিমত প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলিষ্ঠ কক্তে উচ্চারণ করেনঃ মা আমায় ক্ষমা করো, গ্রন্থাগারে লেগেছে আগুন/ মোঙ্গল হালাকু খান উলংগ অসির ক্ষিপ্র নখে/ বিদ্ধ করে শুভবুদ্ধি। ভালবাসা পাষাণ ফলকে/ রুদ্ধ করে ব্যঙ্গ রসে সিদ্ধ করে ফুলের ফাগুন।....... আহত বিস্ময়ে কাঁপে অলৌকিক সুখের প্রলাপ/ দ্বৈমাত্রিক বোধে প্রেম বৈপ্লবিক শপথে সুফলা/ জননী প্রসূত প্রাণ গণযুদ্ধে কালের সৈনিক। ( মাতৃভূমির প্রশ্নেঃ রক্তে আমার অনাদি অস্থি) অন্যত্র বলেনঃ পূর্বাশার বিহঙ্গেরা দিগ্বিজয়ী প্রেম নিয়ে বুকে/ প্রত্যহ এগিয়ে যাবে পৃথিবীর নানা পথ ধরে,/ প্রগাড় চুম্বন রেখে পশুরাজ সিংহের কেশরে,/ ঘুচাবে সংশয় ওরা শিল্পায়িত প্রাণের কৌতুকে। (পূর্বাশার বিহঙ্গেরাঃ রক্তে আমার অনাদি অস্থি) কবি দিলওয়ার মাটি ও মানুষের কবি, মানবতার কবি। তিনি যন্ত্রদানবের প্রভাবে বিপর্যস্ত নাগরিক কবি নয়। তিনি মননের চর্চা করেন হৃদয়কে কেন্দ্র করে। হৃদয়বৃত্তিকে শিকেয় তুলে বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা তিনি করেন না। তাঁর আহ্বানঃ তাই বলি এসো তুমি, নাগরিক রুক্ষতাকে মুছে/ মনের মিনার থেকে, তৃণাবৃত এই খোলা মাঠে;/ অবাধ হাওয়ার নৌকা বাঁধা এই জীবনের ঘাটে/ সোল্লাসে ভাসাও তারে, অন্তরের গ্লানি যাক ঘুচে। যতদিন বেঁচে আছো ততোদিন মুক্ত হয়ে বাঁচো,/ আকাশ মাটির কন্ঠে শুনি যেন তুমি বেঁচে আছো। (যতদিন বেঁচে আছোঃঐকতান) নজরম্নলকে নিবেদিত কবিতায় দিলওয়ার স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেনঃ হে কবি/ তোমার অনাবৃত হৃদয়ই/ তোমার অনন্ত মহোল্লাস/ এবং আমাদের ক্রমশঃ যুক্তিবাদী মনীষার/ অন্তরতম যন্ত্রণা।(১১ই জ্যৈষ্ট / বিদ্রোহী নজরুলঃ উদ্ভিন্ন উল্লাস) কবি দিলওয়ার তাঁর কবিতায় সব সময় সাহস ও আশাবাদের বানী শুনিয়েছেন। মানুষের শঠতা-কুটিলতা, সমাজ ও সমাজপতিদের ভন্ডামী, রাজনৈতিক বিপর্যয় - কোন কিছুই তাঁকে হতাশ করেনি। তিনি বিশ্বব্যাপী একটি সুষম সমাজের স্বপ্ন দেখেন এবং সে সমাজ বিনির্মানের পথে নিরলস প্রচেষ্টার আহ্বান তাঁর কবিতার সর্বত্র মূর্ত হয়ে ওঠেছেঃ এবং জননীরা/ ভগিনীরা/ প্রেয়সীরা/ সময়কে ভাগ করে নিয়ে,/ প্রাত্যহিক কর্মের অবসরে/ আমাদের শ্রমসুন্দর মহাচেতনাকে/ গুচ্ছ গুচ্ছ পাকা আঙুরের মতো/ বন্টন করে দেবেঃ সুখ, শান্তি, মৈত্রী আর প্রেম। তখন আমাদের দীপ্তি স্বচ্ছ বৃষ্টির দর্পনে/ প্রতিবিম্বিত হবে/ জগতের মানবিক সমস্যা হৃদয়ঃ হাতে হাত/ বুকে বুক/ সুষম চলার উল্লাস। ঘুণার বল্লমে বিঁধে/ অরাতির বুক/ পূর্বাশার পাদপীঠে/ একবিশ্বঃ একটি জীবন। (ঐকতানঃ একবিশ্ব - একটি জীবন।) তিনি স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশকে নিয়ে, স্বপ্ন দেখেন সুন্দর একটি সমাজের। সে স্বপ্নে গৌরবোজ্জল অতীত আছে, আছে আলোয় ঝলমল ভবিষ্যতের অঙ্গীকার। তিনি তার স্বপ্নকে সকল মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চানঃ স্বপ্নে আমার পূর্ব পুরুষ/ জড়িয়ে থাকেন/ কালান্তরে আশায় ভাষায় ছড়িয়ে থাকেন। ...... এই তো আমার স্বপ্নগুলি:/ ধলেশ্বরী, কর্ণফুলী/ মেঘনা,/ তিতাস, সুরমা, মনু/ এমনি কতো শুভ্র ধনু/ জন্মভূমির ভূরুর সাথে / শক্তি জোগায় বজ্রপাতে। (আমার কিছু স্বপ্ন আছে) তিনি সাহসিকতার সাথে উচ্চারণ করেনঃ তবে আমার সত্তার গভীরে বিনিদ্র সেই/ আদিম অকুতোভয় সাহস/ ঝঞ্ঝার মেঘে/ ঢাকা ডাইনি রাত্রির/ শ্বাপদ সঙ্কুল অস্ত্রনালি/ নখে নখে ছিন্ন-ভিন্ন করে/ জয়শ্রীর সূর্যকে ধরে আনবেই/ আমাদের ফসল প্রত্যাশী আঙিনায়। আর আমাদের তরঙ্গিত সন্তানেরা/ সেই দেবদূর্লভ সূর্যি মামার কাঁধে চড়ে/ নিষ্পাপ/ আনন্দে হাত তালি দিয়ে দিয়ে / রাহুমুক্ত আকাশ-মাটির গানে/ হয়ে ওঠবে কাকলী মূখর। ( এক বিশ্বঃ একটি জীবন) বাংলার এ কবি নিজেকে বিশ্বনাগরিক বলে ঘোষণা করেছেন। আমার বিবেচনায় কবি দিলওয়ার শুধু কথায় নয়, চরিত্র ও মননেও তিনি বিশ্বনাগরিক। তাঁর ভাষায়, পৃথিবী স্বদেশ যার আমি তার সঙ্গী চিরদিন/ আমাকে সমুদ্রে খোঁজো হে প্রিয় সংগ্রামী নর-নারী।' সম্প্রতি লেখা 'পৃথিবীর সক্রেটিসের জন্যে' কবিতায় কবি নিজেকে উন্মূক্ত করে দিয়ে বলেনঃ কেউ বিশ্বাস করুক অথবা না করুক তুমি জানো/ কৈশোর থেকেই আমার জীবনে কত অমৃত জনের আনাগোনা/ সেই কনক তালিকায় আজও প্রস্ফুটিত -/ আব্রাহামের সলোমনের যিশুখ্রিষ্টের / মোজেস এবং মোহাম্মদের, গৌতমবুদ্ধের/ জরথুস্ত্রের কনফুসিয়াসের/ রাওজু-র মহাবীর জৈনের মহান সাইরাসের/ এবং এমনিই আরো কত নাক্ষত্রিক মুখ.... / সক্রেটিস, কখন আমার যৌবনবুভুক্ষ নরনারী জানবে - / তোমার মতো মানব সন্তানেরাই/ সময়কে প্রগতিশীল করে তোলে/ এবং মহাজীবনের সমস্ত আবর্জনাকে কালের কৃষ্ণবিবরে/ চিরস্থায়ী নিক্ষেপ করে নিসর্গের দক্ষিণা হয়ে ওঠে?........ সক্রেটিস, বারবার আমি শুনতে চাই/ তোমার কালজয়ী মানবীয় উচ্চারণ - / আমি শুধু একজন এথেনবাসী কিংবা গ্রিক নই/ আমি হচ্ছি বিশ্বনাগরিক! কবি দিলওয়ারের কবিতা ও কাব্য ভাবনা সম্পর্কে এটা কোন পূর্ণাঙ্গ আলোচনা নয়। তাঁর সকল কাব্যগ্রন্থ বর্তমানে আমার হাতের কাছে নেই। এ আলোচনার সূত্র ধরে বিলাতের কোন বিদগ্ধ সমালোচক তাঁর কাব্য সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা নিয়ে এগিয়ে আসবেন বলে আমি আশা করছি। আজ কবি দিলওয়ারের জন্মদিন। প্রতিবারের মতো এবারও লন্ডনের নজরুল সেন্টার কবির জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। এ জন্যে বিলাতের কবিতা প্রেমিকদের পক্ষ থেকে নজরুল সেন্টারের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন। আজকের দিনে সুরমা পারের বিশ্বনাগরিক এ কবির উদ্দেশ্যে আমি টেমসের পার থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। কবির জীবন আরো দীর্ঘ, উজ্জল ও কর্মময় হোক। |
|