![]() |
Home | Articles | About | Contact |
|
লর্ড আহমদকে ধন্যবাদ
লর্ড আহমদকে ধন্যবাদফরীদ আহমদ রেজা লর্ড নাজির আহমদকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সুদানে আটক বৃটিশ শিক্ষয়ত্রী মিস্ জিলিয়ান গিবনসকে শেষ পর্যন্তô তিনি মুক্ত করতে পেরেছেন। সাথে সাথে সুদানে তার সফরসঙ্গী ব্যারোনেস ওয়ারসীকেও ধন্যবাদ। তাদের উভয়ের সময়োচিত সাহসী পদক্ষেপের কারণে মুসলিম উম্মাহ, বিশেষ ভাবে বিলাতের মুসলমানরা আরেকটি নতুন অস্বস্তিôকর পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। লর্ড আহমদ এবং বেরোনেস ওয়ারসী’র তৎপরতা সকল মুক্তমনা এবং বিবেকবান মানুষকে স্বস্তিô দিলেও বিবিসি নিউজ টুয়েন্টি ফোরের এন্ড্রু নিল’কে মনে হয় স্বস্তিô দেয়নি। সুদান থেকে জিলিয়ানকে মুক্ত করে নিয়ে আসার পর পরই এন্ড্রু নিল ‘স্ট্রেইট টক’ অনুষ্ঠানে ড· আহমদকে দাওয়াত করে নিয়ে আসেন এবং অপ্রাসঙ্গিক অনেক প্রশ্ন উত্থাপন করে তাকে বিব্রত করার চেষ্টা করেন। এন্ড্রু নিলের প্রশ্ন থেকে মনে হয়েছে পৃথিবীর যেখানেই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হোক না কেন এর দায়-দায়িত্ব লর্ড আহমদকে বহন করতে হবে। মুসলমান অধ্যুষিত বিভিন্ন দেশের মানবতা বিরোধী পদক্ষেপের জন্যে ইসলাম বা লর্ড আহমদকে কোনভাবেই দায়ি করা যায় না। ক্ষমতালিপ্সু এ সকল সরকার নিজেদের স্বার্থে অথবা মুর্খতা বশতঃ অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করে যা সরাসরি কুরআন এবং সুন্নাহ্ও সাথে সাংঘর্ষিক। এ দায় সে সকল রাষ্ট্র বা সরকারের। কিন্তু ইসলাম বিদ্বেষী মহল এর সাথে ইসলামকে জড়িত করে ঘোলাজলে মাছ শিকার করতে চায়। এন্ড্রু নিল সে চেষ্টাই সেখানে করেছেন। সাক্ষাতকারে সম্পূর্ণ অযাচিত ভাবে সালমান রুশদী প্রসঙ্গও টেনে আনা হয়েছে। এন্ড্রু নিল এক পর্যায়ে লর্ড আহমদকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনি সুদানের সামরিক একনায়ক ওমর আল-বশিরের সাথে কি ভাবে করমর্দন করলেন? তার হাত তো মানুষের রক্তে রঞ্জিত। তার সাথে করমর্দন করতে গিয়ে আপনার মনে কি ঘৃণার উদ্রেক হয়নি?’ লর্ড আহমদ অবশ্য এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সেখানে গিয়েছি একজন বৃটিশ নাগরিককে মুক্ত করে নিয়ে আসতে। আমরা কি সাদ্দামের সাথে বৈঠক করিনি? আইআরএ’র সাথেও আমরা বসেছি।’ জিলিয়ান গিবনসের অপরাধ কি ছিল তা কারো কাছে অস্পষ্ট নয়। তার স্কুলের এক ছাত্রকে তিনি টেডি বেয়ারের নাম মুহাম্মাদ রাখতে অনুমতি দিয়েছিলেন। সুদানের জনগণ এবং আদালতের কাছে এই অনুমতি প্রদান একটা গর্হিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সুদানের জনগণ জিলিয়ানের ফাসির দাবিতে মিছিল করেছে এবং আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করেছে। কিন্তু যে ছাত্র তার নিজের টেডি বেয়ারকে এ ভাবে নামকরন করেছে তার প্রতি সুদানের কেউ কোন প্রকার কটাক্ষ বা ক্ষোভ প্রকাশ করেনি। টেডি বেয়ারের নাম মুহাম্মদ রাখার প্রস্তôাব জিলিয়ান দেননি, ছাত্ররাই তা করেছে। ছাত্রদের তা করার পেছনে কারণ রয়েছে। সুদানের ছাত্র তো বটেই, সেখানকার অধিকাংশ মানুষের নামের প্রথম শব্দ মুহাম্মদ। শুধু সুদান নয়, মুসলিম বিশ্বের প্রায় সর্বত্র এ রীতি প্রচলিত। সত্যিকার অর্থে মুহাম্মদ তাদের নাম নয়। বরকতের জন্যে তারা আসল নামের সাথে মুহাম্মদ বা আহমদ নাম সংযুক্ত করেন। যেমন, কারো ছেলের নাম যদি মারুফ হয় তা হলে তার নাম লিখতে গিয়ে আমরা লেখি মুহাম্মদ মারুফ, কেউ কেউ আবার এর শেষে আহমদ শব্দটিও জুড়ে দেই। কিন্তু পরিবার বা সমাজে সে মারুফ নামে পরিচিতি লাভ করে। আমরা কেউ তাকে মুহাম্মদ বা আহমদ নামে সম্বোধন করিনা। বড় হবার পর তাকে আমরা বলি মারুফ সাহেব, ইউরোপীয় কায়দায় আহমদ সাহেব বা মিস্টার আহমদ বলিনা। পাশ্চাত্য সমাজে এ রীতি না থাকার কারণে তারা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে ‘মুহাম্মদ’ শব্দটিকে আসল নাম বলে মনে করে। মুসলমানরাও এর কোন প্রতিবাদ করেন না, তাই এটা এখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। বিশেষ করে স্কুলে যাওয়ার পর শিক্ষকরা আমাদের ছেলেদের মুহাম্মদ বলে সম্বোধন করেন। তারপর একদিন এই ছেলেরা নিজেরাও ভাবতে শুরু করে যে তাদের আসল নাম মুহাম্মদ। মা-বাবার দেয়া আসল নাম তারা বলতে গেলে ভুলে-ই যায়। জিলিয়ান যে স্কুলে কাজ করতেন সেখানকার অধিকাংশ ছাত্রের নামের প্রথমাংশ মুহাম্মদ। সে হিসেবে মুহাম্মদ হচ্ছে সে ক্লাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় নাম। টেডি বেয়ারের নাম মুহাম্মদ রাখার পেছনে এই জনপ্রিয়তাকেই বিবেচনা করা হয়েছে। এর সাথে মুসলমানদের নবী মুহাম্মদের কোন সম্পর্ক ছিলনা। টেডি বেয়ার কোন আসল ভালুক নয়, একটি খেলনা-ভালুকের নাম। ইউরোপের ছেলেমেয়ের কাছে টেডি বেয়ার একটি জনপ্রিয় খেলনা। বড়দের মধ্যেও অনেকে শখ করে টেডি বেয়ার কিনেন এবং শোবার ঘরে বা বসার ঘরে যত্নের সাথে সাজিয়ে রাখেন। টেডি বেয়ার বানানো এবং এর নাম করনের প্রচলন এ দেশের প্রাইমারী স্কুলেগুলোতে দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। এখানে টেডি বেয়ারকে শিক্ষাকার্যক্রমের সাথে ছেলেমেয়েদের সংশ্লিষ্ট করার একটি আকর্ষণীয় উপকরন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর সাথে কোন প্রকার ঘৃণা-বিদ্বেষ বা অশুভ চিন্তôার সম্পর্ক নেই। বৃটিশ সমাজে জন্মগ্রহণকারী ও শিক্ষাপ্রাপ্ত জিলিয়ান গিবনস এবং তার মতো হাজার হাজার শিক্ষকের কাছে এটা একটা নির্দোষ প্র্যাকটিস। সে দৃষ্টিকোন থেকেই জিলিয়ান গিবনস নিজের লেসন প্ল্যানের অংশ হিসেবে ছেলেমেয়েদের টেডি বেয়ার তৈরি করতে বলেছেন। যে ছেলে তার টেডি বেয়ারের নাম মুহাম্মদ রাখতে চেয়েছে তার মধ্যেও কোন অশুভ চিন্তôা ছিলনা। এ ঘটনাকে যারা নবীকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ বা মুসলমানদের অবমাননার সাথে সম্পৃক্ত করে পানি ঘোলা করতে চাইছে তাদেও উদ্দেশ্য মহৎ নয়। এটা অত্যন্তô দুঃখজনক যে এ রকম একটা নির্দোষ বিষয় কিছুটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং কিছুটা মুর্খতা বশতঃ গোটা বিশ্বের জন্যে সংবাদ শিরোনাম হয়ে ইউরোপীয় মুসলমানদের বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি করেছে। এই সামান্য বিষয় নিয়ে সুদানের এক শ্রেণীর মুসলমান যে রকম যুদ্ধংদেহি আচরন প্রদর্শন করেছে তা কোন সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ সমর্থন করতে পারেনা। একই সাথে সুদান সরকার এবং সেখানকার আদালতের কার্যক্রমকেও বালখিল্য আচরন বলা ছাড়া উপায় নেই। সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশির একজন সামরিক স্বৈরশাসক। বন্দুকের জোরে তিনি ১৯৮৯ সালে ক্ষমতা দখল করেন এবং বন্দুকের জোরেই ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছেন। জাতিগত দাঙ্গা, অনাবৃষ্টি ও মংগা পীড়িত সুদানের তিনি একচ্ছত্র অধিপতি। ইচ্ছে করলেই তিনি নিজে বা তার বশংবদ আদালতের মাধ্যমে শুরুতেই বিশেষ পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনাটির নিস্পত্তি করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, ওমর আল-বশিরের মতো একজন ক্ষমতালিপ্সু স্বৈরশাসকের নিকট থেকে সে ধরনের শুভবুদ্ধি আশা করাও এক ধরনের বোকামী। মুসলমানদের দৃষ্টিতে পবিত্র বা সম্মানিত কোন কিছুর সম্পর্কে কেউ কোন মন্তôব্য করলে মুসলমানরা আহত বা ক্ষুব্ধ হবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোন কিছু হলেই মিছিল বের করে হৈ চৈ করা বা ফাসি দাবি করা যেন আমাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। অনেকে আবার বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যক্তিগত পদক্ষেপের মধ্যে সব সময় আন্তôর্জাতিক ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করতে চেষ্টা করেন। আনন্দের বিষয় যে বৃটিশ মুসলমানরা আলোচ্য ঘটনায় সুদানের জনগণের মতো জিলিয়ান গিবনসের ফাসি দাবি করে মিছিল বের করেনি। তারা বরং জিলিয়ান গিবন্সের মুক্তির পক্ষে সোচ্চার হয়েছেন। মুসলমানরা কেন এ সব ঘটনায় আহত বা ক্ষুব্ধ হন তা বৃটেন বা ইউরোপের জনগণের কাছে স্পষ্ট নয়। মুসলমানদের প্রতি যারা অত্যন্তô সহানুভুতিশীল তারাও ব্যাপারটা বুঝতে পারেনা। আমরা মুসলমানরাও ইউরোপীয় মানসিকতা বোঝার খুব একটা চেষ্টা করিনা। যার ফলে ইসলাম এবং মুসলমানদের সাথে ইউরোপের দৈহিক বা বস্তুগত সংযোগ বৃদ্ধি পেলেও মানসিক দিক দিয়ে দু পক্ষ এখনো রুডইয়ার্ড কিপলিং-এর যুগে বসবাস করছে। রুডইয়ার্ড কিপলিং এর ‘দ্যা ব্যালেড অব ইস্ট এন্ড ওয়েস্ট’ শীর্ষক একটি নাতিদীর্ঘ কবিতা আছে। কিপলিং বিশ শতকের অন্যতম বহুল পঠিত এক বৃটিশ কবি। কবিতার মূল বক্তব্য কবি প্রথম দু লাইনে বিবৃত করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, - ‘ওহ্, ইস্ট ইজ ইস্ট, এন্ড ওয়েস্ট ইজ ওয়েস্ট, এন্ড নেভার দ্যা টোয়েইন শ্যাল মিট’। ভৌগলিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে অবশ্য পূর্বের সাথে পশ্চিমের দেখা-সাক্ষাতের কোন সুযোগ নেই। নিছক ভৌগলিক তথ্যের আলোকে কবিদের বক্তব্য বিচার করা হয় না এবং কোন কবিই নিজেকে ভূগোলে বর্ণিত সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে কথা বলেন না। কবি কিপলিং এখানে পশ্চিমের সাথে পূর্বের আদর্শিক এবং সাংস্কৃতিক গরমিলের দিকে ইঙ্গিত করে এ সিদ্ধান্তেô এসেছেন যে পূর্বের সাথে পশ্চিমের বন্ধুত্ব বা মিলন সুদূর পরাহত। পূর্বের সাথে পশ্চিমের দ্বন্দ্ব এবং বিরোধ অনেক গভীর ও তাৎপর্যবহ - এতে কোন সন্দেহ নেই। তা সত্ত্বেও বাঙালি কবি রবীন্দ্রনাথ পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যে মিলনের সঙ্গীত রচনা করার দুঃসাহস প্রদর্শন করেছেন। রবীন্দ্রনাথ যে সময়ে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে মিলনের স্বপ্ন দেখেছেন তখন কম্পিউটার আবিষ্কৃত হয়নি এবং স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সমগ্র পৃথিবী একদিন একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজে’ পরিণত হবে এমনটি কেউ কল্পণা করেনি। কিপলিং এর চেয়ে রবীন্দ্রনাথ অনেক বড় কবি ছিলেন। মানবিকতা এবং বিশ্বজনীনতার যে জয়ধ্বনি বিশ শতকের আলোকিত মানবগোষ্ঠীর মনোরাজ্যে ঢেউ তুলেছিল এর সাথে রবীন্দ্রনাথ পরিচিত ছিলেন। তার নিজের মেধা তো ছিলোই, এর সাথে যোগ হয়েছিল পারিবারিক কারণে পারস্যের কবি হাফিজ-খৈয়ামের প্রভাব। তাই রবীন্দ্রনাথ যেটা বুঝতে পেরেছেন সেটা কিপলিং কল্পণাও করতে পারেননি। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে বাস করছি। আজকের যুগে কোন দেশ বা জনগোষ্ঠী কোন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের বাসিন্দা নয়। গ্লোবাল ভিলেজের নাগরিক হিসেবে সবাই মিলে মানুষের এই পৃথিবীকে মানুষের বসবাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে আমরা মানব সমাজে যে সকল দেয়াল তৈরি করেছি তা ভেঙে ফেলতে হবে। বর্তমান সময়ের দাবি ইস্ট এবং ওয়েস্টের বিভাজন নয়, ঐক্য। সবাই মিলে মুক্তবুদ্ধি, উদারতা এবং সহনশীলতা চর্চার মাধ্যমে সে ঐক্য গড়তে হবে। কিপলিং যে সময় এ কবিতা রচনা করেন তখন ইউরোপে চিন্তôার ক্ষেত্রে যে নতুন বিপ্লব সাধিত হয় সেখানে ধর্মের কোন স্থান ছিলনা। ধর্মীয় সকল কিছুর প্রতি উন্নাসিকতা থেকে এর যাত্রা শুরু হয় এবং সে প্রবণতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। ক্রিসমাসের মতো একটি ধর্মীয় উৎসবকে তারা সেক্যুলার ভাবে পালন করে। ক্রিসমাস উৎসবের সেক্যুলার চরিত্র লালন ও অক্ষুন্ন রাখার ব্যাপারে তারা অত্যন্তô সতর্ক। ধর্মীয় বিষয় বা ধর্ম-যাজকদের নিয়ে কার্টুন অংকন বা তাদের নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করাকে তারা নির্দোষ আনন্দ হিসেবে দেখে। খৃস্টান ধর্মকে রক্ষার জন্যে বিলাতে ব্ল্যাসফেমি আইন থাকলেও এর প্রয়োগ এখানে নেই বললেই চলে। ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার সাথে সাথে লেখক বা শিল্পীদের মতামতের স্বাধীনতাকেও এখানে অত্যন্তô গুরুত্ব দেয়া হয়। মুসলিম সমাজের সাথে ইউরোপের আদি পরিচয়ের সূত্র হচ্ছে যুদ্ধের ময়দান, স্বাধীনতা আন্দোলন এবং ইউরোপীয় লেখকগোষ্ঠী। ইউরোপীয় সমাজের অধিকাংশ মানুষ মনে করে, ‘ইসলাম তরবারীর জোরে প্রসার লাভ করেছে।’ ইসলামের নবীকে একজন যুদ্ধবাজ ধর্মীয় নেতা হিসেবে চিত্রিত করে বিভিন্ন ইউরোপীয় ভাষায় অসংখ্য বই-পুস্তôক রচিত হয়েছে। ইউরোপের জনগণ, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত সমাজ এ সকল বই-পুস্তôক থেকে ইসলাম সম্পর্কে সম্পূর্ণ নেতিবাচক ধারণা লাভ করেছে। এমনি পরিবেশে বৃটেনে যখন ভোট হারাম বলে মাইকিং হয়, হিজাব নিষিদ্ধ অথবা টেডি বেয়ারের মুহাম্মদ নাম করণের বিরুদ্ধে মিছিল হয় তখন তারা এ সকল তৎপরতার মধ্যে পঠিত বই থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়। প্রোপাগান্ডার জোরে এবং সেক্যুলার ‘মাইন্ড সেটের’ কারণে তখন তারা ইসলাম সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আমরা জানি, আমাদের নবী ছিলেন গোটা বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপ। কিন্তু মুসলিম বিশ্বে এবং বৃটেনে মুসলমানদের আচরণের কারণে মহানবীর সে রূপটি আজ সম্পূর্ণ পর্দার আড়ালে চলে গেছে। এখানে আমি ছোট্র একটি ঘটনা উল্লেখ করছি। ঘটনাটি অনেকের জানা আছে। একবার এক বেদুইন এসে মসজিদে নববীতে প্রস্রাব করে ফেলে। সাহাবারা তাকে মারতে গেলে মহানবী তাদের থামিয়ে দিয়ে বলেন, এখানে এক বালতি পানি এনে ঢেলে দাও। মানুষের প্রতি সহজ হও, কঠিন হয়োনা। তোমাদের কাজ হচ্ছে সুসংবাদ প্রদান, নিন্দাবাদ করা নয়। আমরা মহানবীকে খুব ভালোবাসি, এতে কোন সন্দেহ নেই। তবে এ কথা মনে রাখা দরকার, ভালোবাসার দাবি হচ্ছে তাকে অনুসরন করা, তরবারী হাতে মিছিল করা নয়। লন্ডন ১৯ ডিসেম্বর ২০০৭ |
|