|
ফরীদ আহমদ রেজার কবিতা
একটি মেহেদী রাঙা হাত
একটি মেহদী রাঙা হাত উত্তোলিত হতেই মনে পড়ে কবিতার একটি সোনালী কলম বল্লমের ফণার মতো ঝিলিক দিতে পারে হতে পারে মর্মভেদী যুদ্ধাস্ত্র কখনো।
পৃথিবী তার নিজস্ব পথে এগিয়ে চলেছে ঘরে ঘরে এখন যুদ্ধ চলছে ভাতের ফেন গালতে গালতে অথবা চায়ের সাথে চিনি মেশাতে মেশাতে কোন কোন রমণীর হাত বিদ্রোহ ছড়ায় নকল খোদাদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে।
দোলনা থেকে শিশুরা ইরানী যুবক হয়ে মাঠে নামে শাহদের সিংহাসনে ধ্বস নামে গৌড়গোবিন্দের দালানের মত এবং ওমর একজন ফাতিমার কাছে বিপ্লবের মেনিফেস্টো পেয়েছিল।
শবমেহের (কবি দিলওয়ারকে)
তোমার নাম এখন সবার মুখে মুখে টানবাজারে যারা তোমার রুপ-যৌবনের চুম্বক দেখে হিংসার আগুনে জ্বলে পুড়ে মরছে তাদের সে আগুন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
তোমার দেহবিক্রির টাকা দিয়ে একজন দানবীর তোমাকে বেশ্যালয়ে তালিকাভুক্ত করে কেউ অর্থবিত্তে সমাজপতি তোমাদের সরদারনীর বেকার ছেলে মায়ের টাকার জোড়ে মেম্বার তাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে একদল লোক তোমাকে নিয়ে শর্টফিল্ম তৈরী করে চেহারা পাল্টে ফেলেছে মৃত শবমেহেরের বাণিজ্যিক মূল্য বুঝতে পারেনি বলে ওরা এখন নিজেদের চুল নিজেরা ছিড়ছে।
তুমি যেদিন নিহত হলে এর পরদিন দেশ জুড়ে হৈ চৈ বিবৃতির ঝড় শোকসভার বহর দেখে অনেকে ভেবেছে দেহ ব্যবসা বুঝি দেশ থেকে উঠে যাবে। কিন্তু দু'দিন পর সব ঠিকঠাক এখন আবার কেউ কেউ ইন্ডাষ্ট্রি হিসেবে বিষয়টিকে বিবেচনা করছে। আজকার টানবাজারের সবাই কমবয়সী মেয়েদের দিকে শকুণের মত নজর রাখে আর কোন কিশোরী যদি তোমার মত ইতিহাস হয়ে যায় তাহলে ওরা আপনা মেয়ে মানুষকে নিয়ে নাটক করতে আর কাউকে সুযোগ দেবে না। নিজেরাই তাকে নিয়ে শর্টফিল্ম তৈরী করে বিত্ত ও বাহাবা কুড়াবে এবং তারপর তওবা করে বেশ্যার দালালী ছেড়ে দিবে।
নারী (আব্দুল হামিদ মানিক বন্ধুবরেষু)
এ কথা জেনেছি ঠিক অমোঘ নিয়ম রমণীর কাছে আছে দায়বদ্ধ সকল মানুষ এক কঠিন বন্ধনে পুরোনো এ ইতিকথা পৃথিবীর মতো ঠিক সমান পুরোনো।
নারী ও ফুলের কাছে বারবার আসে যায় কবিও কবিতা রক্তাক্ত হদয় নিয়ে উত্তাপে বিদ্রোহ কখনো অমৃত পায় কখনো গরল বদবু ছড়ায় কভু সুরভিত বুকের ভেতর ঘর বাঁধে ঘর ভাঙে খরা প্লাবনে
শিশুর সরল চোখে রমণীর জোড়া স্তন মায়ের প্রতীক যুবকের বুক ভরা প্রচন্ড আবেগ স্মৃতির জাবর কেটে পরিতৃপ্ত বার্ধক্য হদয় নারীর পরশ মাঝে খোঁজে পায় অফুরন্ত সুখের আশ্বাস।
শ্রমেও সময়ে ক্লান্ত প্রাণী ও মানুষ রাজার প্রাসাদে কিংবা মাটির ডোরায় অদৃশ্যে সুতোর টানে আসে আর যায়
নারী ও পুরুষ ভরা এ পৃথিবী বিধাতার অপূর্ব চয়ন আশ্চর্য বিস্ময় প্রেমের পসরা বুকে এ দেশের সকল রমণী মা বোন বধুর বেশে ঘরগুলো রেখেছে মুখর নারীর সৌরভ নিয়ে পশরা সাজিয়ে যারা বিনিকিনি করে সমগ্র সৃষ্টির ক্রোধ কিনে তারা কিনে অভিশাপ
যে ঘরে রমণী নেই সেই ঘর বিরান বসতি নারীর পরশহীন বাসগৃহ অপয়া অশুচি রমণী বিহীন ঘর অনুর্বর তাই সেথায় প্রবেশ নিষেধ। |