![]() |
Home | Articles | About | Contact |
|
বেনজামিন যেফানিয়ার কবিপ্রতিকৃতি
বেনজামিন যেফানিয়া’র কবিপ্রতিকৃতি ফরীদ আহমদ রেজা বৃটিশ কবি বেনজামিন যেফানিয়া রাজপথের কবি, বিদ্রোহের কবি। কঠোর নিরামিষভোজী এ কবি বর্ণবাদ এবং সকল প্রকার জুলুম ও অবিচারের বিরুদ্ধে সব সময় উচকন্ঠ। বিলাতের কাব্যজগত সম্পর্কে বেঞ্জামিনের বিশ্লেষণ হচ্ছে, বিলাতে দু ধরণের কবি আছেন। এক দল কবি জনবিচ্ছিন্ন জীবন যাপন পছন্দ করেন। তারা বিলাসবহুল বাড়িতে বাস করে কবিতা চর্চা করেন। কবিতার মাধ্যমে তারা নিজেদের পান্ডিত্য প্রকাশ করে আত্মতুষ্টি অর্জন করেন। তারা কবিতা লেখেন তাদের বুদ্ধিজীবী বন্ধুদের জন্য। তাদের কবিতা সাধারণ মানুষের জন্য নয়। তিনি তার লেখায় এ শ্রেনীর কবিদের মেধা ও কাব্যপ্রতিভার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রকাশ করলেও তাদের সাথে নিজের কবিতার পার্থক্য স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করেছেন। নিজের কবিতা সম্পর্কে তিনি বলেন, What fascinates me is the 'performance poetry' scene where comedy, politics, love and anger sit side by side, and young things come to feed their minds before going out for a night of dancing. This is the poetry scene that I would like to bring to your attention. These poets do not simply believe in art for art's sake, they write with conviction, they have a purpose; they believe it is their duty to connect with their audience. (The Poetry scene in নিজের কবিতা সম্পর্কে বেনজামিনের এ বক্তব্যের সাথে তার কবিতার পাঠকদের দ্বিমত প্রকাশের কোন অবকাশ নেই। তার কবিতা পাঠ করলেই বোঝা যায় তিনি শিল্পের খাতিরে শিল্প তত্তে¡ বিশ্বাস করেন না, একটি মহৎ উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে তিনি কাব্যচর্চা করেন । কবিতার মাধ্যমে তিনি পাঠকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে চান এবং তিনি যা বিশ্বাস করেন তা-ই তার কবিতায় প্রকাশ পায়। কবি বেনজামিন যেফানিয়া একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, এবং নাট্যকার। শিশুতোষ কবিতা রচনায়ও তিনি পারঙ্গম। ২০০৩ সালে বৃটিশ সরকারের ওবিই খেতাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান তিনি সংবাদ শিরোনাম হয়েছেন। বৃটিশ সরকার বা রাণীপ্রদত্ত খেতাব আরো অনেকে গ্রহণ করেননি। কিন্তু কেউ রাজকীয় খেতাবের বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন বলে আমাদের জানা নেই। বেনজামিন কেন এ খেতাব গ্রহণ করেননি তা গার্ডিয়ানে দীর্ঘ কলাম লেখে বিশ¡বাসীকে অবহিত করেছেন। খেতাব ও উপঢৌকন দিয়ে বুদ্ধিজীবী বেচাকেনার এ আদিম রীতির বিরুদ্ধে এর আগেই তিনি কবিতায় লিখেন, Smart big awards and prize money Is killing off black poetry It’s not censors or dictators that are cutting up our art. The lure of meeting royalty And touching high society Is damping creativity and eating at our heart. (Bought and Sold: Too Black, Too Strong) অর্থাৎ চৌকস ও ঢাউস তকমা এবং নগদ পুরস্কার কালো কবিতাকে হত্যা করে কালাকানুন বা ডিক্টেটর শিলকে ধ্বংস করে না। রাজকীয় সংসর্গ এবং অভিজাত মহলের পরশ লাভের আকর্ষণ সৃষ্টিধর্মী চেতনা ভোতা করে দেয় এবং আমাদের কলিজা ভক্ষণ করে। (বট এন্ড সোল্ডঃ টু ব−্যাক টু স্ট্রং) এম্পায়ার বা সাম্রাজ্য শব্দটি বেনজামিনের কাছে জুলুম-নির্যাতনের প্রতীক হিসেবে চিনিত। তার মতে শব্দটি উচারণের সাথে সাথে শত শত বছরের দাসপ্রথা, নির্যাতন ও শোষণের চিত্র মানস পটে ভেসে উঠে। ওবিই খেতাব, যার অর্থ ওর্ডার অব বৃটিশ এম্পায়ার, গ্রহণ না করার পেছনে এ অনুভুতিই তার মনে জাগ্রত ছিল। এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে ২৭ নভেম্বর, ২০০৩, গার্ডিয়ানে প্রকাশিত কলামে তিনি বলেন, Let me make it clear: I have nothing against her or the royal family. It is the institution of the monarchy that I loath very much, the monarchy that refuses to apologises for sanctioning slavery. অর্থাৎ, আমি পরিষার ভাষায় বলতে চাই, রাণী বা রাজপরিবারের বিরুদ্ধ আমার কোন কথা নেই। রাজকীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিই আমার প্রবল ঘৃণা, যে রাজতন্ত্র দাসপ্রথা অনুমোদনের জন্য ক্ষমা প্রর্থণা করতে অস¡ীকৃতি জানাচ্ছে। বেনজামিন সেখানে আরো বলেন, I am not one of those who are obsessed with their roots, and I am certainly not suffering from a crisis of identity; my obsession is about the future and the political rights of all people. Benjamin Zephaniah OBE - no way Mr Blair, no way Mrs Queen. I am profoundly anti-empire. অর্থাৎ, যারা নিজেদের শিকড়ের প্রতি অন্ধ আবেগে আপ−‚ত আমি তাদের দলে নই এবং আমি অবশ্যই আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে আক্রান্ত নই। মানব সমাজের ভবিষ্যত এবং মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে আমি চিন্তিত। বেনজামিন যেফানিয়া ওবিই - কোন ভাবেই তা হয় না মি. বে−য়ার, কোন ভাবেই হয় না মহামান্য রাণী। আমি সাংঘাতিক রকম সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী। বেনজামিনের পুরো নাম বেনজামিন ওবাদিয়াহ ইকবাল যেফানিয়া। তিনি নিজের পরিচয় নিজেই এ ভাবে দিয়েছেন, My full name is Benjamin Obadiah Iqbal Zephaniah which Christian, Jewish and Muslim. তার জন্ম ১৯৫৮ সালের ১৫ এপ্রিল বার্মিংহামের কৌলস হিল এলাকায়। তার প‚র্বপুরুষ জামাইকা থেকে এসে বৃটেনে বসতি স্থাপন করেন। জন্মের পর তার শিশুকালের কিছু অংশ জামাইকা এবং কিছু অংশ বার্মিংহামের হ্যান্ডজওয়ার্থ এলাকায় কেটেছে। তার নাম থেকে কেউ যদি ভাবেন আরব মুসলমানদের সাথে তার প‚র্বপুরুষের এক সময় সম্পর্ক ছিল তা হলে সে ভাবনাকে ফু দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার অবকাশ নেই। বেনজামিনের কাব্যে জামাইকা অঞ্চলের ডাব পোয়েট্রির প্রভাব অত্যন্ত সুস্পষ্ট। বেনজামিনের ভাষায় এটা স্ট্রিট পলিটিক্স বা রাজপথের রাজনীতি। এ জন্য তাকে রাজপথের কবি হিসেবে অভিহিত করা যায়।উৎসব বা সমাবেশে বাদ্যযন্ত্রের ঝংকার সহযোগে আবৃত্তি করে তার কবিতার প্রকৃত রস আস্বাদন করতে হয়। বেনজামিনের কবিতা একক ভাবে আবৃত্তির বিষয় হলেও এর সাথে বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে প্রচলিত কবিয়ালদের পালাগান বা মালজোড়া গানের মেজাজ সেখানে পাওয়া যায়। কোন কোন সমালোচক জামাইকার কবি মাইকেল স্মিথের কাব্যের সাথে বেনজামিনের কবিতার সাজুয্য লক্ষ্য করেছেন। তবে বেনজামিন পুরোমাত্রায় একজন বৃটিশ কবি, বৃটিশ জনগণকে লক্ষ্য করেই তার কবিতা নিবেদিত হয়েছে। বর্তমান সময়ের তিনি একজন জননন্দিত বৃটিশ কবি। ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দ‚র প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তার জনপ্রিয়তা অনেক ইংরেজ কবির জন্যে ঈর্ষার বিষয়। তার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অত্যন্ত তির্যক বা ঝলসানো কবিতাও তিনি খুব সহজ-সরল বাক্য প্রয়োগ করে উপস্থাপন করতে পারেন। তার কবিতার সাথে তার জীবনের মিল খুব বেশি। এক সাক্ষাতকারে তিনি কৌতুক ছলে বলেন, আমি মদ খাই না, ধূমপান করি না, কিছুই করি না। আমি ভেগান অর্থাৎ নিরামিষভোজী। আমি এমনি ফেরেশতা স¡ভাবের যে ভাগ্য ভালো হলে বছরে বড়জোর একবার যৌনাচার করি। বেনজামিনের ছোটবড় মিলিয়ে অনেক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং এখনো তার কলম অব্যাহত রয়েছে। তার বহুল পঠিত বইগুলোর মধ্যে পেন রিদম, দ্যা ড্রেড এফেয়ার, রাস্টা টাইম ইন প্যালেস্টাইন, সিটি সামজ, টকিং টার্কি, ফানি চিকেন, প্রপা প্রপাগান্ডা, টু ব−্যাক টু স্ট্রং, ফেইস, রেফিউজি বয়, গ্যাংস্টার্যাপ,উই আর বৃটেন, উইকেড ওয়ার্লড, লিটল বুক অব ভেগান পোয়েমস, জে ইজ ফর জামাইকা, ইনা লিভারপুল, লাভ পোয়েমস, স্কুলস’ আউট পোয়েমস নট ফর স্কুল প্রভৃতি উলে−খ করার মতো। বেনজামিনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ পেন রিদম ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়। বইটি কবিতা পাঠকদের কাছে এতই সমাদৃত হয় যে অলদিনের ব্যবধানে বইটির তিনটি সংস্করণ প্রকাশ করতে হয়েছে। তার বই এলবাম রাস্টা তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। সে বইয়ে তিনি দক্ষিণ আফি"কার বতর্মান বিশ¡নন্দিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নেলসন ম্যান্ডেলার সৈ¡রাচার ও বর্ণবাদ বিরোধী সংগ্রামের জয়গান করেছেন। সে সময়ের নেলসন ম্যান্ডেলা রাজবন্দি ছিলেন। পরবর্তীতে নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পরে ম্যান্ডেলা লন্ডনের আলবার্ট হলে অনুষ্ঠিত টু নেশন কনসার্ট পরিচালনার দায়িত্ব বেনজামিনকে প্রদান করে সম্মানিত করেন। বিলাতের বহুজাতিক সমাজে বেড়ে উঠা বিক্ষুব্ধ তারুণ্য অনেক সময় বেনজামিনের কন্ঠে নিজেদের কন্ঠস্বর শুনে তৃপ্তি পায়। বেনজামিন ইংরেজি কবিতাকে অভিজাত বিপনিকেন্দ্র থেকে টেনে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছেন। এই সাধারণ মানুষের মধ্যে তরুণরাই সংখ্যাধিক্য। তারুণ্যের পোড় খাওয়া আবেগকে উজ্জীবিত করা এবং জেগে উঠা আবেগকে মানবতার কল্যাণের পথে ধাবিত করার এক আশ্চর্য ক্ষমতা বেনজামিন অর্জন করেছেন, যা বেনজামিন এবং তার সমসাময়িক কবিদের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট সীমানা চিনিত করে দিয়েছে। পিতার কঠোর শাসন থেকে পালিয়ে বেড়ানো বেনজামিন তার মায়ের সাথে কখনো হ্যান্ডজ ওয়ার্থে বা মানেস্টারে আবার কখনো ওরচেস্টারে কাটিয়েছেন। আট বছর বয়সে এক অচেনা লোক ইট দিয়ে আঘাত করে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। বাঙালি কবি নজরুলের মতো স্কুলের বাঁধাধরা নিয়ম তাকে কখনো বেঁধে রাখতে পারেনি। এক সময় তিনি স্কুল থেকে বহিস্কৃত হন। এর পর থেকে রাজপথ তার বই এবং পৃথিবী তার পাঠশালা হয়ে গেছে। বিলাতের অনেক তরুণের মতো প্রিজন সেলে বসবাসের অভিজ্ঞতা বেনজামিন স্কুল জীবনেই লাভ করেছেন। ছোটখাটো অপরাধে বেশ কয়েকবার এবং মারামারির অপরাধে তাকে দু বছর জেলের ভাত খেতে হয়েছে। কিছুদিন জেলে অবস্থান করার কারণে বিলাতের প্রিজন সার্ভিস সম্পর্কে তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতা আর্জন করেছেন। কয়েদিদের মানবেতর জীবন ও ভোগান্তি তার বেশ কিছু কবিতায় অত্যন্ত দরদমাখা ভাষায় ফুটে উঠেছে। জেল জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে যখন তিনি বিদেশ যান তখন সে দেশের জেল পরিদর্শন করতে চেষ্টা করেন। বিলাতের জেল জীবন সম্পর্কে তিনি বলেন, Prison is a bin where they put people. The judicial system is not intelligent enough to deal with re-offending and it is a crime that the system is not imaginative enough. আর্জেন্টিনা সফরকালে সেখানকার জেলের সুব্যবস্থা দেখে তিনি খুবই আনন্দিত হন। একটি ইউনিভর্সিটি ক্যাম্পাসে তা স্থাপন করা হয়েছে। সে দেশের জেল সম্পর্কে তিনি বলেন, Of all prisoners who have gone through in the past seven years, only one has re-offended. These people are coming out of prisons with PhDs. হল্যান্ডের প্রিজন সার্ভিসের ব্যাপারেও তার উচ ধারণা রয়েছে। হল্যান্ড সফরের সময় এমন এক ব্যক্তির সাথে তার দেখা হয় যে একজনকে চড় মারার অপরাধে ছয় বছর জেলে কাটিয়েছে। বেনজামিনের জিজ্ঞাসার জবাবে সে বলেছে, শুধুমাত্র শনি-রবিবার তাকে জেলে থাকতে হয়েছে। শাস্তির অংশ হিসেবে সপ্তাহের অন্যান্য দিন তাকে কলেজে গিয়ে লেখাপড়া করতে হতো। এ ভাবে সে ডিগ্রি অর্জন করেছে, পরিবারের সাথে বসবাস করেছে এবং অপরাধী হিসেবে সমাজে খারাপ ভাবে চিনিত হয়নি। বেনজামিনের মতে জেল এবং মৃত্যুদন্ড যদি অপরাধ দমনে কর্যকর ব্যবস্থা হতো তা হলে আমেরিকা পৃথিবীর মধ্যে নিরাপদ বেহেশতে পরিণত হতো। বৃটিশ সমাজ এ পর্যন্ত বেনজামিনকে নানা ভাবে সম্মানিত করেছে। নিজের ডানপিঠে স¡ভাবের কারণে তিনি জিসিএসই পাশ না করতে পারলেও ইউনিভর্সিটি অব নর্থ লন্ডন অনারারি ডক্টর ইন আর্টস এন্ড হিউমেনিটিজ, ইউনিভর্সিটি আব সেন্ট্রাল লন্ডন ডক্টর আব লেটারস এবং ইউনিভার্সিটি আব স্টাফোর্ডশায়ার ডক্টর অব দ্যা ইউনিভর্সিটি প্রদান করে বৃটিশ সমাজ ও কবিতায় তার অবদানের স¡ীকৃতি প্রদান করেছে। এ ছাড়া লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভর্সিটি, ইউনিভর্সিটি অব এক্সটার এবং ইউনিভর্সিটি অব ওয়েস্টমিনিস্টারের পক্ষ থেকেও তাকে অনারারী ডক্টরেট দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে। ইলিং হাসপাতাল তার নামে তাদের একটা ওয়ার্ডের নামকরণ করেছে। তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ দ্যা ড্রেড এফেয়ার -এ বেনজামিন বৃটিশ বিচার ব্যবস্থাকে তীব্র কাষাঘাত করেছেন। রাস্টা টাইম ইন প্যালেস্টাইন গ্রন্থ ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের সুখ-দুঃখের কাহিনী নিয়ে রচিত হয়েছে। টকিং টার্কি এবং ফাঙ্কি চিকেন শিশুতোষ গ্রন্থ। ফেইস এবং রেফিউজি বয় টিন এজারদের জন্য লেখা দুটো উপন্যাস। ফেইস উপন্যাসে চেহারার কারণে বৈষম্যের শিকার মানুষদের কষ্টের কথা বর্ণিত হয়েছে। রেফিউজি বয় ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রয়ার মধ্যকার সংঘাতের শিকার আলেম নামক এক রেফিউজি ছেলের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে। টু ব্ল্যাক টু স্ট্রং কাব্যগ্রন্থ প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে। স্টিফেন লরেন এবং অন্যান্য বহুল আলোচিত রাজনৈতিক মামলা চলাকালে বেনজামিন কিছুদিন মাইকেল ম্যানসফিল্ড কিউসির সাথে কাজ করেন। সে সময়ের লেখা কবিতাগুলি এ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। সেখানে তার বট এন্ড সোল্ড কিল দেম বিফোর রামাদান, থ্রি ব−্যাক মেইলস, ন্যাকেড, রিমাইন্ডার, দ্যা এম্পায়ার কামজ ব্যাক প্রভৃতি বহুল পঠিত কবিতাগুলি অন্তভর্‚ক্ত হয়েছে। কিল দেম বিফোর রামাদান ইরাকে মার্কিন আগ্রসনের পটভ‚মিতে লেখা। বেনজামিন এ কবিতায় আমেরিকা ও বৃটেনের শাসকগোষ্ঠিকে উলঙ্গ করে দিয়েছেন। থ্রি ব্লাক মেইলস বর্ণবৈষম্যম‚লক নির্যাতনের কাহিনী বিবৃত হয়েছে। এ কবিতায় বিলাতের পুলিশ, হোম অফিস, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, জুরি সার্ভিস ইত্যাদিকে তিনি ব্যঙ্গ-বিদ্র‚প করেছেন। বেনজামিনের কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার কবিতা ডাব পোয়েট্রি’র স্টাইলে ছন্দের তালে তালে নেচে নেচে আবৃত্তি করা যায়। কবি নিজেও সভা-সমাবেশে নিজের কবিতা এ ভাবে আবৃত্তি করতেই ভালবাসেন। বেনজামিনের অনেকগুলি সিডি বাজারে আছে। এ গুলোর মধ্যে আস এন্ড দেম এবং বেলি দ্যা বিস্ট সবচেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। অন্যান্য সিডির মধ্যে রয়েছে ডাব রান্টিং, রাস্টা, বিগ বয়েজ ডোন্ট মেইক গার্লস ক্রাই, ফ্রি সাউথ আফ্রিকা, ক্রাইসিস, ডানিং ট্রাইবস প্রভৃতি। উই বৃটেন কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় বেনজামিন বলেন, আমরা যারা বিলাতে বাস করছি তারা কেউ এখানকার স্থানীয় বাসিন্দা নয়। কেলিক, এশিয়ান, আফ্রিকান, ভারতীয়, বাংলাদেশী, পাকিস্তানী সবাই মিলে আমরা বৃটেনকে একটি বহুসংস্কৃতির সমাজ হিসেবে গড়ে তুলছি। অন্যত্র তিনি বলেন, বিদেশ ভ্রমণ আমার নেশা। আমি বিদেশে গিয়ে মানুষের সাথে মেলামেশা করি। তবে যতই আমি দেশ ভ্রমণ করছি ততই বৃটেনের প্রতি আমার ভালবাসা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ দেশে আমরা আমাদের রাইটের জন্য ফাইট করতে পারছি। প্রশ্ন আসে, বেনজামিন কবিতার মাধ্যমে কি বলতে চান? এর উত্তর বেনজামিন নিজেই দিয়েছেন। তার ভাষায়, আমার মিশন হলো কবিতাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া। আমি মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে সরাসরি কবিতা আবৃত্তি করে তা করতে সক্ষম হয়েছি। আমি কবিতা আবৃত্তি করে মানুষকে আনন্দ দেয়ার চেষ্টা করি। তবে এর সাথে আমি তাদের কাছে গুরুত্বপ‚র্ণ বানীও পৌঁছে দিতে চাই। বর্ণবাদ, জীব-জন্তুর অধিকার এবং পরিবেশ দ‚ষণ নিয়ে আমি বিচলিত। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, ছেলে এবং মেয়ে উভয়কে সমান অধিকার দিতে হবে। যুদ্ধকে আমি ঘৃণা করি। বড়োরা ছেলেমেয়েদের উপদেশ দিয়ে বলে, বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে তোমরা মারামারি করো না। আর সেই বড়োরা-ই নিজেরা লড়াই করবে - এটা আমার মতে মোটেই সঙ্গত নয়। আমার মতে সেনাবাহিনী গঠন নিষিদ্ধ করে দেয়া উচিত। লন্ডন ১৯ জুন ২০০৯ |
|