Home | Articles | About | Contact
গুলরুখ-কথা

ফরীদ আহমদ রেজা
গুলরুখকথা

আমার আকাশ জুড়ে জ্যোতির্ময় নক্ষত্রের রঙধনু খেলা
ফুলের বয়স নিয়ে ঝরে পড়ে কেউ
জ্বলন্ত উল্কার বেগে ছাই হয়ে বাতাসে মিলায়
কেউ ছোটে উধ্বর্পানে অনেষাi তীরতীব্র আর্তি বুকে ধরে
সতত বর্ষণ করে ইসমে আজম লেখা নামের মাদুলি
সবুজ বাগানে ঝরে অর্ধপক্ষ পিচফল রসে ভরা আঙুর আপেল
মেঘের পালক থেকে ঝরঝর ঝরে
সবুজ ঘাসের গায়ে শীতের সকাল মাখা কুয়াশার হাসি
সিক্ত হয় তৃপ্তি পায় মানুষ ও প্রকৃতি
রূপরসে ভরে উঠে মৃত্তিকার মধুভরা বুক।

আমার আকাশ জুড়ে অনিন্দ্য সৌন্দর্যভরা ধ্বনির গুঞ্জন
ঘুমন্ত দুপুর রাত সুনসান বর্ষার পড়ন্ত বেলায়
ডাহুকের মন্ত্রমুগ্ধ ডাক
শালিকের সরোদ আলাপ
গাছের পাতার ফাঁকে সন্তর্পন ঘুঘুর আওয়াজ
গুন গুন কর্মজীবী মধুমক্ষিকা
অরণ্যের বুক চিরে ভেসে আসা দোয়েলের শিস্
পাতার মর্মর ধ্বনি, ফুলের সুবাস
পাখায় আওয়াজ তুলে উড়ে চলা শীতের অতিথি
ডোভার সৈকত পাশে নৃত্যরত শিশু-ডলফিন
গভীর সমুদ্র বক্ষে যুথবদ্ধ তিমি ও হাঙর
ঢাকাই শাড়ির বোঝা কাঁধে ব্যস্ত প্রৌঢ় ফেরিওয়ালা
জালালি কৈতর-স্বরে গায় শুধু অবিস্মৃত নাম
নফি-ইসবাত লালন-কালাম।

আমার আকাশ জুড়ে মজিরের অনির্বাণ জোহরা তারকা
রাত্রি গভীর হলে অনুচ্চ উচারণে বলে যায় গুলরুখকথা
কানে কানে বলে যায় বার বার বলা সেই প্রেমের কাহিনী
প্রতিবার মনে হয় এই বুঝি প্রেমকাব্যের প্রথম সবক
বাতাসে সওয়ার হয়ে সে কাহিনী ছুটে চলে আরো উর্ধ্ব পানে
মহাকাশ-সীমানা ছাড়িয়ে -
ভয়ে কাঁপে নুরের পালকধারী ফেরেশতা জিবরিল।

লন্ডন
১১ জুলাই ২০০৯