![]() |
Home | Articles | About | Contact |
|
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার
- ফরীদ আহমদ রেজা ছাব্বিশে মার্চকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বাধীনতা উত্তর কালে যারা দেশ শাসন করেছেন তারাই এ দিনটি ঠিক করেছেন। কেন এবং কোন্ প্রেক্ষাপটে ১৬ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস হয়েছে সে ভিন্ন প্রসঙ্গ। সত্যিকার অর্থে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক নতুন একটি রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে ষোলই ডিসেম্বর তারিখে। রাস্ট্রীয় সিদ্ধান্তেôর কারণে আমাদের ১৬ ডিসেম্বরকে বিজয় দিবস এবং ২৬ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করতে হয়। আমরা যারা বাংলাদেশে বড় হয়ে এসেছি তাদের কাছে বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস অত্যন্তô তাৎপর্যবহ। কিন্তু এ দেশে বেড়ে উঠা আমাদের নতুন প্রজন্মকে আমরা এর সাথে কতটুকু সম্পৃক্ত করতে পেরেছি? আমরা দেখেছি এ দেশের ছেলেমেয়েরা ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ এবং ২১ ফেব্রম্নয়ারী ৈএ তিনটি তারিখ নিয়ে অনেক সময় খুবই বিপদে পড়ে। তারা একটির সাথে অপরটিকে গুলিয়ে ফেলে। আমরা চাই বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা এ তিনটি জাতীয় দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত হোক এবং এর সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করম্নক। কিন্তু তাদের আমরা কতটুকু সে ভাবে তৈরি করতে পেরেছি, বিলাতের বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীর কাছে আজকের দিনে এটাই আমার জিজ্ঞাসা। অনেকে বলেন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ফলে হাজার বছর পর বাঙালি নিজের বলে দাবি করার মতো একটি রাষ্ট্রের অধিকারী হয়েছে। যারা এ কথা বলেন তারা আসলে ইতিহাস জানেন না অথবা ইচ্ছে করে ইতিহাস বিকৃত করতে চেষ্টা করেন। হাজার বছর আগে বাঙালী নিজ ভূখন্ডে থেকে আর্যদের আক্রমণ প্রতিরোধ করেছে। সেটাই ছিল বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ। ৭৮৫ খৃস্টাব্দে বাংলার জনগণ পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালকে গণতান্ত্রিক পন্থায় নিজেদের রাজা নির্বাচিত করে পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্তô স্থাপন করে। সে সময় মদীনা ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও জনগণের মতামতের ভিত্তিতে শাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু ছিল বলে আমাদের জানা নেই। সে সময় থেকে নিয়ে ১১৩০ খৃস্টাব্দ পর্যন্তô পাল বংশের নৃপতিরা স্বাধীনভাবে বাংলাদেশ শাসন করেন। অবশ্য বাংলার স্বাধীন সুলতান হাজী শামসউদ্দীন ইলিয়াস শাহ্ ১৩৩৯ খৃস্টাব্দে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের নিমড়ব অববাহিকার বিস্তôীর্ণ এলাকা নিয়ে বাঙ্গালাহ্ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব সিরাজুদ্দৌলাহকে পরাজিত করে বাংলার মসনদ দখল করার মাধ্যমে ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের গোড়াপত্তন হয়। ইংরেজরা ভারতবর্ষ ত্যাগ করার সময় বাঙালির হাতে বাংলার শাসন হস্তôান্তôর করে যাওয়াই ছিল অধিকতর যুক্তিযুক্ত। কিন্তু বাস্তôবে তা হয়নি এবং এ নিয়ে তখন কেউ তেমন মাথা ঘামায়নি। আবুল হাশেম, শরৎ বসু প্রমুখ বৃহত্তর বাংলার স্বপড়ব দেখলেও মুসলিম লীগ এবং কংগ্রেসের অন্যান্য সর্বভারতীয় নেতা ব্যাপারটাকে কখনই ভালো চোখে দেখেননি। মুসলিম লীগের লাহোর প্রস্তôাবে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ অঞ্চলগুলো নিয়ে কয়েকটি রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তôাব ছিল। পরে হোসেন সোহরাওয়ার্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দিল্লী অধিবেশনে জিন্নাহ্র ঐকান্তিôক আগ্রহে তা সংশোধিত হয়ে যায়। এ কারণেই বাংলা অঞ্চলকে পাকিস্তôানের সাথে যোগ দিতে হয়। যে কংগ্রেস বঙ্গ-ভংগের সময় রুদ্রমুর্তি ধারণ করেছিল সেই কংগ্রেসই বাংলাকে ভাগ করে নিয়ে যায়। আমরা বাংলাদেশের বাঙালি সমাজ এমন এক আত্মবিস্মৃত গোষ্ঠী যে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে মক্কা বিশ্ববিদ্যালয় বলে বিদ্রুপ করেছে তারা আমাদের কাছে মহান বুদ্ধিজীবী। যারা মুসলিম স্বার্থের অনুকুলে সৃস্ট বঙ্গ-ভংগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে লুন্ঠন ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়েছে তারা আজ আমাদের কাছে জাতীয় বীরের মর্যাদায় আসীন। অপরদিকে হাজী শরিয়তুল্লাহ, তিতুমীর, ফকির মজনু শাহ্, সৈয়দ হাদী, সৈয়দ মাহদী, সৈয়দ আহমদ শহীদ প্রমুখের মতো যারা ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে জীবন-পণ করে যুদ্ধ করেছেন তাদের নাম নিতেও আমাদের লজ্জা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবনদান পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো নতুন বা অভিনব ঘটনা নয়। কিন্তু জঘন্যতম ঘটনা হচ্ছে সে সময়ে পাকিস্তôানী সামরিক বাহিনী এবং তার দোসরদের দ্বারা পরিচালিত গণহত্যা। লক্ষ লক্ষ সাধারণ ও নিরীহ নাগরিককে তারা পাইকারীভাবে হত্যা করেছে, অসংখ্য ঘর-বাড়ি ভস্মীভূত করেছে ও মা-বোনকে অত্যাচার করেছে। তাদের অত্যাচার শুধু শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিলনা, প্রত্যন্তô গ্রামাঞ্চল পর্যন্তô তা সম্প্রসারিত হয়েছিল। গ্রামের পর গ্রাম তারা জ্বালিয়ে দিয়েছে, এক লাইনে দাঁড় করিয়ে এক সাথে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে গণকবর দিয়েছে। এ কারণে দেখা যায়, পাকিস্তôানী সৈন্যদের সাথে সরাসরি যুদ্ধ করে যে পরিমাণ বাঙালি মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছেন তাদের তুলনায় সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন অনেক বেশি। স্বল্পসময়ে বাংলাদেশের মতো এত ব্যাপক নরহত্যা যজ্ঞ পৃথিবীর আর কোন দেশে সংঘটিত হতে দেখা যায়নি। ১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার তেত্রিশতম বার্ষিকী উপলড়্গে বিশ্বব্যাপী গণহত্যার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অর্থাৎ ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্তô সময়ে সেখানে দৈনিক গড়ে ৬ থেকে ১২ হাজার লোক নিহত হয়েছে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে পাকিস্তôানী সামরিক জান্তôা ইসলামের দোহাই দিয়ে শতকরা ৮৫ জন মুসলমানের দেশে এ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। ড়্গমতার স্বার্থে তারা ইসলামকে ব্যবহার করে শান্তিôর ধর্ম ইসলামের অবমাননা করেছে। বাঙালি পাকিস্তôানী শাসকগোষ্ঠীর বিরম্নদ্ধে যুদ্ধ করেছে ইসলামকে পরিত্যাগ করে নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং সংখ্যা গরিষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধারা আল্লাহ্র উপর পূর্ণ ভরসা রেখে যুদ্ধ করেছে। জেনারেল ওসমানী মুক্তিযুদ্ধ উত্তর এক নিবন্ধে আমাদের বিজয় লাভের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রথমেই তিনি আল্লাহ্র উপর অটুট বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেছেন। আমাদের এতো ত্যাগ এবং কুরবানীর বিনিময়ে বাঙালির সবচেয়ে বড় পাওনা হচ্ছে নিজের বলে দাবি করার মতো একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ভূখন্ড। দীর্ঘ দিন পর বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী এ দেশকে কেন্দ্র করে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ অর্জন করেছে। এ বছর আমরা স্বাধীনতার ৩৫ বছরে পদার্পন করতে যাচ্ছি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সাথে জড়িত অনেক বিষয় নিয়ে এখনো আমাদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। এর মধ্যে গুরম্নত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। আওয়ামী লীগের দাবি হচ্ছে, ২৫ মার্চ মধ্যরাত্রে শেখ মুজিবর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। যদিও তাঁর এ ঘোষণা কেউ শুনেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২৫ মার্চ যারা সর্বশেষ শেখ মুজিবের বাড়ি থেকে প্রস্থান করেন তাদের কেউ এ ব্যাপারে কোনো তথ্য প্রদান করেননি। চট্টগ্রাম কালুর ঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা অসংখ্য মানুষ শুনেছেন। স্বাধীনতা উত্তরকালে কে স্বাধীনতার ঘোষক এবং কে নয় তা নিয়ে তেমন বাকবিতন্ডা হয়নি। শেখ মুজিব এবং জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এ দু’নেতার অনুসারীদের মধ্যে এ নিয়ে বিতর্ক জমে উঠে। শেখ মুজিব এবং জিয়া ৈকেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন না। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দু’জনই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনায় অবদান রেখেছেন। এটা ঠিক যে শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। তিনি স্বেচ্ছায় পাকিস্তôানী বাহিনীর হাতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তা স্বত্ত্বেও তিনিই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রাণশক্তি। অপরদিকে, জিয়াউর রহমানের ঘোষণা মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষকে নতুন প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করেছে। পরবর্তীতে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে এবং বাকশাল উত্তর সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাই বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে এ দু’নেতার মধ্যে কারো নামই মুছে ফেলা যাবেনা। আওয়ামী লীগের ৭০-এর নির্বাচনী ঘোষণাপত্রে ধর্মনিরপেড়্গতা বা সমাজতন্ত্রের কথা ছিলনা। সে সময় তাদের ঘোষণা ছিল, ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগ ইসলাম বিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবেনা। ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ভারত থেকে আমদানী করেছেন এবং বর্তমানে তা জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এক দলীয় শাসন, সংবাদপত্রের কন্ঠরোধ, রক্ষী বাহিনীর নির্যাতন ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে কতটুকু সঙ্গতিপূর্ণ? আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল শোষণমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। ইংরেজদের তাড়িয়ে দিয়ে আমরা পাকিস্তôান তৈরি করেছিলাম অনেক আশা নিয়ে। সে আশা আমাদের ধুলিস্মাৎ হয়েছে। পাকিস্তôানী শাসকগোষ্ঠী আমাদের শোষণ করেছে, নির্যাতন করেছে, ভাতের অধিকার দেয়নি, ভোটের অধিকার দেয়নি, মতামত প্রকাশের অধিকার দেয়নি। তাই আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। সে যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন নেতারা, কিন্তু যুদ্ধ করেছে ও জীবন দিয়েছে সাধারণ মানুষ। তারা নিজেদের ধর্ম বা জীবনাচার বিসর্জন দিয়ে যুদ্ধ করেনি বা জীবন দেয়নি। গত চৌত্রিশ বছরে সে সাধারণ মানুষকে আমরা কতটুকু সুখ দিতে পেরেছি, এটাই আজকের দিনের সবচেয়ে বড় জিজ্ঞাসা হওয়া উচিত। এটা সুস্পষ্ট যে পাকিস্তôানী সামরিক জান্তôার সাথে বাংলাদেশী জনগণের যুদ্ধ ছিল বৈষম্য ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। আমাদের প্রত্যাশা ছিল একটি শোষণমুক্ত ও সুখী বাংলাদেশ। আমরা তখন এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখেছি এবং সবাইকে দেখিয়েছি যে দেশে মানুষে মানুষে কোনো বৈষম্য থাকবেনা, যে দেশের শাসনক্ষমতা থাকবে জনগণের হাতে এবং যে দেশের মানুষ মৌলিক মানবিক অধিকারের গ্যারান্টি উপভোগ করবে। দেশবাসী এবং বিশ্ববাসীর কাছে এটাই ছিল মুক্তি যুদ্ধের অঙ্গীকার। আজকে তাই আমাদের পেছনে ফিরে দেখা দরকার, গত ৩৪ বছরে আমরা কতটুকু অর্জন করেছি এবং আরো কত পথ আমাদের হাঁটতে হবে। একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আমরা বিশ্ব সমাজের সামনে কি মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছি, নাকি এখনো নর্দমা ভর্তি কানাগলিতে দাঁড়িয়ে কানা-মাছি ভোঁ ভোঁ খেলছি? যারা দেশের জন্যে জীবন দিয়েছে ও নির্যাতন সহ্য করেছে তাদের মধ্যে সংখ্যার দিক দিয়ে সাধারণ মানুষই সংখ্যগরিষ্ঠ। আমরা কি সে সাধারণ মানুষকে তাদের মৌলিক মানবীয় অধিকার সমূহ দিতে সক্ষম হয়েছি, নাকি পাঞ্জাবী শোষকদের পরিবর্তে বাংলাদেশকে এক দল বাঙালি শোষকের স্বর্গরাজ্য হিসেবে তৈরি করেছি? পাকিস্তôানী নেতা বা মন্ত্রীর বদলে বাঙালি মন্ত্রী বা নেতা তৈরির কারখানা বানানোর জন্যে দেশবাসী জীবন বাজি ধরে ন’মাস যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনেনি। সেখানে নির্যাতন ও শোষণমুক্ত একটা সুখী-সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণের অঙ্গীকার ছিল। আজ দু’হাজার ছয় সালের স্বাধীনতা দিবসের প্রত্যুষে দেশে-বিদেশে অবস্থানকারী সকল বাংলাদেশী জনগোষ্ঠীকে এ সকল প্রশ্নের উত্তর অন্বেষণ করে দেখতে হবে বলে আমরা মনে করি। অত্যন্তô পরিতাপের বিষয় যে স্বাধীনতা উত্তরকালে যাদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল তাদের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের কারণে দেশটি ‘বটমলেস বাস্কেট’ অভিধা পেয়েছিল। তখন যারা বিরোধী দলে থেকে সরকারের সমালোচনা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে রক্ষী বাহিনী দাবড়ে দিয়ে এবং নানা রকম দমন নীতির মাধ্যমে এক শাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। এক পর্যায়ে এসে দেশের সকল মানুষকে একটি মাত্র দলে যোগ দিতে বাধ্য করা হয় এবং মাত্র চারটি সংবাদপত্র রেখে আর সকল পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ধরণের অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপের ভদ্রজনোচিত প্রতিবাদ হিসেবে জেনারেল ওসমানী এবং ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন জাতীয় সংসদের সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তী পর্যায়ে ১৫ আগষ্ট নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে পরিবার-পরিজনসহ নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, আওয়ামী লীগ নেতা খোন্দকার মোশতাক আহমদ ক্ষমতা দখল করেন এবং এর-ই ধারবাহিকতায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের উত্থান ঘটে। পয়ত্রিশ বছর আগে বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা ছিল একশ’ জন, এখন বাংলাদেশে হাজার খানেক কোটিপতি সৃষ্টি হয়েছে। দেশী লুটেরা ও ডাকাতদের সুযোগ সৃষ্টির জন্যেই কি তাহলে আমরা পাকিস্তôানীদের তাড়িয়েছি? পাকিস্তôান আমলের ছোট আমলা বাংলাদেশ হওয়ার ফলে বড় আমলা হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন, ছোট ব্যবসায়ী বড় ব্যবসায়ী হয়েছেন, দারোগা হয়েছেন এসপি, ডিসি হয়েছেন সচিব এবং চোঙ্গা ফুকার রাজনীতিবিদ হয়েছেন মন্ত্রী। কিন্তু জনগণ কি পেয়েছে? গরিব জনগণ আরো গরিব হয়েছে। ভূমিহীন কৃষক ও ছিন্নমূল পরিবারের সংখ্যা লক্ষ থেকে কোটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। ছিন্নমূল ও দিনমজুর শ্রেনীর সংখ্যাবৃদ্ধিই কি ছিল মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার? কেন এমনটি হচ্ছে? এর জন্যেই কি আমরা যুদ্ধ করেছি এবং শহীদরা জীবন দিয়েছে? এটা কি বিজয় না পরাজয়? আমরা জানি এ সকল প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী ঘরানার লোকেরা দোষ দেবেন বিএনপি এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের। অপরদিকে, বিএনপি ঘরানা দোষ দেবে আওয়ামী লীগকে। স্বাধীনতার পর এ দুটি দলই প্রধানতঃ দেশ শাসন করেছে। জাসদ, জামাত, ন্যাপ প্রভৃতি দল কখনো ক্ষমতাসীন হয়নি। স্বৈরশাসক এরশাদ বন্দুকের জোরে দশ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। বাকি সময় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি ভাগাভাগি করে ক্ষমতায় ছিল। তাই এ দু’দল দেশ গঠনে নিজেদের ব্যর্থতার দায় অস্বীকার করতে পারবেনা। আগামী দিনের ঐতিহাসিকরা মূল্যায়ন করার আগে আমাদের নেতানেত্রী, বিশেষ করে প্রধান দুটি দলের নেতাকর্মীরা নিরপেক্ষভাবে নিজেদের একটু মূল্যায়ন করলে জাতি উপকৃত হবে। যারা একবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট হয়েছেন তারা ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। আগামী দিনের ইতিহাসে তাদের মূল্যায়ন হবে কাজের মাধ্যমে, বাকচাতুর্যের মাধ্যমে নয়। তারা কতটুকু জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়েছেন এবং দেশকে কতটুকু সমৃদ্ধ করেছেন ৈএর আলোকেই তাদের মূল্যায়ন করা হবে। কে কতদিন জননেত্রী বা দেশনেত্রী ছিলেন সেটা তেমন গুরুত্ব পাবেনা। তাদের ভেবে দেখা দরকার, যে দেশে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নেই এবং ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি প্রতিষ্ঠিত সে দেশের নেতা-নেত্রী হিসেবে গর্ব করার কি আছে? সবাই মিলে দেশ গঠন করুন এবং নিজেদের আখের না গুছিয়ে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পরস্পর প্রতিযোগিতা করুন। তাতে দেখা যাবে, কারো ছবি টানানোর জন্যে লাঠি টানাটানি করতে হবেনা, মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায় আপনাদের ছবি টানানো থাকবে। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি ৈদুটো দলই সেক্যুলার গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং বাজার অর্থনীতির প্রবক্তা। এর পরও দু’দলের মধ্যে কোনো সমঝোতা নেই। আমাদের মতে, বর্তমান সময়ে এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। দু’দলের বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গত এক যুগ যাবত দু’নেত্রীর মধ্যে কথাবার্তা পর্যন্তô বন্ধ। গণতান্ত্রিক নীতি হচ্ছে নির্বাচিত সরকার দেশ চালাবে এবং বিরোধী দল সরকারী দলের ত্রুটি-বিচ্যুতির খবরদারি করবে। এরশাদ সরকারের পতনের পর দেশে এ রকম একটা পরিবেশ আসবে বলে সকলের আশা ছিল। কিন্তু বিগত তিনটি তিনটি নির্বাচনের পর দেশবাসীকে একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিজয়ী দল ক্ষমতায় ঠিকমত বসার আগেই পরাজিত দল সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করে দিয়েছে। পরিণতিতে জনস্বার্থ শিকেয় উঠে এবং দু’দলের মধ্যে কামড়া-কামড়ি চলে। আসলে গণতন্ত্রের কথা মুখে বললেও কাজে-কর্মে আমরা স্বৈরতন্ত্রী। শুধু নিজেদের স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনেই আমরা গণতন্ত্রের দোহাই দেই। ‘তাল গাছ’ আমার ভাগে পড়লেই শুধু আমরা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একটি দেশকে তখনই প্রকৃত অর্থে স্বাধীন বলা চলে যখন সে দেশের জনগণ নিজস্ব ভূখন্ডে স্বাধীন ও সার্বভৌম পন্থায় দেশ পরিচালনা করতে পারে। শোষণমুক্ত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে গঠিত দেশটিতে গত ৩৫ বছরে না সুষ্ঠু ও সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া গতিশীল হয়েছে, না অর্জিত হয়েছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। অধিকন্তু দেশটিকে প্রতি নিয়ত প্রতিবেশী দেশ ভারতের চোখ রাঙানির মোকাবেলা করতে হচ্ছে। প্রচার মাধ্যম এবং কুটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ভারত বর্তমানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অত্যন্তô কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ভারতের পত্র-পত্রিকা এবং তাদের দেশীয় ও আন্তôর্জাতিক তৎপরতা পাশাপাশি রেখে পর্যালোচনা করলে এ সত্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তাকারী দেশটি এখন বাংলাদেশের অস্তিôত্বের জন্যে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে বর্তমানে ভুলে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশ সাতদফা চুক্তির কথা আমাদের মনে প্রায়ই উঁকি দেয়। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে ভারত সরকারের সাথে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সে চুক্তি সম্পাদিত হয় এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সেখানে স্বাক্ষর করেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ এবং সিআইএ’ গ্রন্থে মাসুদুল হক বলেন যে, চুক্তি সম্পাদনের পরপরই অস্থায়ী রাস্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম মুর্ছা যান। এ সাত দফা চুক্তি প্রকারান্তôরে ছিল একটি দাসখত। আওয়ামী ঘরানার কালিদাস বৈদ্য বা চিত্তরঞ্জন সুতারের স্বাধীন বঙ্গভূমি আন্দোলন, বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অসহিষ্ণু মনোভাব এবং বাংলাদেশের এক শ্রেনীর কলামিষ্ট ও রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য সাত দফা গোপন চুক্তির প্রতিনিধিত্ব করে বলে অনেকের ধারণা। ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমান পর্যায়ে উপনীত হওয়ার পেছনে উপমহাদেশীয় এবং আন্তôর্জাতিক পর্যায়ের নানা অনুষঙ্গ এখন যোগ হয়েছে। স্বাধীনতার উষালগ্নে বাংলাদেশ ছিল নিছক একটি অধিক জনবসতিপূর্ণ দেশ। এর অফুরন্তô প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যাপারে বহির্বিশ্বের তেমন ধারণা ছিলনা। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের নবলব্ধ প্রকৃতিক সম্পদের দিকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে। দৃষ্টান্তô স্বরূপ ইরাকের কথা উলেস্নখ করা যায়। ইরাকের তৈলসম্পদই সেখানে ইঙ্গ-মার্কিন আগ্রাসনের আসল কারণ। একইভাবে বাংলাদেশের অরক্ষিত সোনার খনি গরীব গৃহস্থের বিপদের কারণ হবে তা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। অপরদিকে, সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ চলছে। অর্থনৈতিক ও সামরিক বিবেচনায় মার্কিন কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এমন একটি নতুন শক্তির অভ্যূদয় বিশ্বমানচিত্রে ঘটছে। ঘটনাক্রমে সে শক্তির সাথে বৃহৎশক্তির অপর দাবিদার ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক কারণে মধুর নয়, কিন্তু বাংলাদেশের সাথে তাদের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। এটা ভারত এবং বর্তমান বিশ্ব-রাজনীতিতে ভারতের ঘনিষ্ট মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশের অস্থিত্ব নিয়ে বৃহৎ শক্তিবর্গ এক মারাত্মক খেলা শুরু করেছে। এর কৌশলগত ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এর জল ও স্থলভাগ দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন খবরদারী ও স্বার্থরক্ষার জন্যে অতি প্রয়োজনীয় হয়েছে। ভারতের বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা এবং সাম্প্রতিক বোমা হামলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে মৌলবাদী ও আকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার আন্তôর্নিহিত কারণ এখানেই খুঁজে দেখতে হবে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আন্দেলনকারী মাওবাদী গেরিলা, বিশেষ করে অশান্তô সাতকন্যায় বিরাজমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভারত সরকার বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহার করতে চায়। বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর মতামত যাই হোক না কেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ভারতকে গ্যাস ও ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার পক্ষে নয়। ভারত এটা অনুধাবন করতে পেরেছে যে বাংলাদেশের কোনো নির্বাচিত সরকার ভারতকে এ সকল সুবিধা দিতে পারবেনা। তাই তারা বিকল্প পন্থায় বাংলাদেশকে অকার্যকর ও মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়াস পাচ্ছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সহযোগিতাকে আমরা ভুলে যাইনি। কিন্তু এর মানে এ নয় যে বাংলাদেশী জনগণ ভারতকে দাসখত লিখে দেবে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতে হলে ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাবের মোকাবেলায় বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ ভারতের সাথে সুসম্পর্ক এবং সৎ প্রতিবেশীসুলভ আচরণ বজায় রেখে চলতে চায়। বিনিময়ে একই ধরণের আচরণ তাদের কাছ থেকেও প্রত্যাশা করে। দুঃখের বিষয় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে এ ব্যাপারে ঐক্য পরিলক্ষিত হচ্ছেনা। জাতীয় সংকট মুহুর্তে রাজনৈতিক বিরোধকে দূরে সরিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে তা মোকাবেলা করার প্রেরণা বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে তেমন শাণিত বলে মনে হচ্ছেনা। এ কারণেই সারা দেশে একযোগে বোমা হামলার পরও জাতীয় সংসদে বা অন্য কোথাও এ নিয়ে সর্বদলীয় কোন আলোচনা হয়নি। পক্ষান্তôরে সরকার যখন জঙ্গি দমনে অভুতপূর্ব সাফল্য দেখাচ্ছে তখন একটি গোষ্ঠী নির্বাচিত সরকারকে এর মেয়াদ পূরণের আগেই ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়ার উদ্দেশ্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে। জাতির জন্যে অবশ্যই তা উদ্বেগের বিষয়। রাজনৈতিক নেতৃত্বের এ ব্যর্থতাকে জাতি কখনো ক্ষমা করবেনা। সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশপাশি প্রয়োজন সৎ ও দক্ষ জনশক্তি। আমরা জানি, বক্তৃতার ফুলঝুরি দিয়ে সততা ও দক্ষতা সৃষ্টি হয়না। এ জন্য প্রয়োজন একটা দীর্ঘ মেয়াদী কর্মসুচী। অফুরন্তô সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ সৎ। তাদের মধ্যে শিক্ষা ও দক্ষতা নেই, আছে সারল্য। অসৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব জনগণের সরলতাকে পুজি করে দেশটাকে লুটেপুটে খাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে দেশটিকে রক্ষা করতে হলে দেশপ্রেমিক, সৎ, শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তিকে দেশ গঠনের সিদ্ধান্তô নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। তারা সিদ্ধান্তô নিয়ে এগিয়ে এলে আমরা দেখবো বাংলাদেশ একদিন এশিয়ার টাইগার হয়ে বিশ্বমানচিত্রে আবির্ভূত হয়েছে। আমরা প্রবাসীরা বিদেশে বসে বাংলাদেশ নিয়ে হাজারো স্বপ্ন দেখি। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে সে সকল স্বপ্ন নতুন করে মনের পাতায় এসে উঁকি দেয়। আমরা চাই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দন্ডায়মান হোক। স্বাধীনতা দিবসে এটাই আমাদের সকলের প্রত্যাশ্যা। লন্ডন ১৯ মার্চ ২০০৬ |
|