Home | Articles | About | Contact
তৃতীয় বাংলার কবিতা

 - ফরীদ আহমদ রেজা

(৪ এপ্রিল ২০০৬ লন্ডনে প্রবাস প্রকাশনী ও শব্দপাঠের তৃতীয় সাহিত্য আড্ডায় পঠিত)

আতাউর রহমান মিলাদের সম্পাদনায় বিলাতের চল্লিশজন কবির কবিতা নিয়ে ‘তৃতীয় বাংলার কবিতা’ প্রকাশিত হয়েছে। ইতোপূর্বে কাদের মাহমুদ ‘বিলাতের বাংলা কবিতা’, তাবেদার রসুল বকুল ‘বৃটেনের কবি ও কবিতা’, রব্বানী চৌধুরী ‘বিলেতে বিশ শতকের বাংলা কবিতা’ এবং কাজল রশীদ-পুলক কান্তিô ধর ‘কাব্যস্নান’-এর মাধ্যমে বৃটেনের বাঙালি কবিদের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিতে চেষ্টা করেছেন।

আলোচ্য সংকলন এবং আজকের অনুষ্ঠান আসলে শব্দপাঠ গোষ্ঠীর অবদান। এ গোষ্ঠী প্রকাশনা ও অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে বিলাতের সাহিত্য অঙ্গনকে বেশ মাতিয়ে রেখেছে। গাঁটের পয়সা খরচ করে দীর্ঘদিন থেকে সাহিত্য বিষয়ক প্রকাশনা অব্যাহত রাখার সাথে সাথে তারা বছরে একবার বিলাতের সাহিত্য প্রেমিকদের জন্যে মিলন মেলার আয়োজন করেন। সেখানে আড্ডা, কবিতাপাঠ, গান এবং অন্যবিধ আনন্দ-উলস্নাসের আয়োজন থাকে, থাকে উপাদেয় খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা। গোটা বিলেতের সকল বাঙালি সাহিত্য-রসিক প্রতি বছর এ দিনটির জন্যে অধির আগ্রহে অপেক্ষা করেন। ‘অর্থই কেবলম্‌’র দেশে এটা একটা অত্যন্তô আশাব্যঞ্জক মহৎ কাজ। বিলাতের সাহিত্য প্রেমিকদের প্রকাশের বেদনা ও অধ্যয়নের আকাঙ্খাকে যারা এভাবে সার ও পানি দিয়ে সতেজ ও সরস করে রাখছেন তাদের কাছে আমরা ঋণী হয়ে আছি। তাদের আয়োজিত সাহিত্য সমাবেশ নানা কারণে বৈশিষ্ট্যময়। সেখানে নাম ফাটানো বা জৌলুস প্রকাশের উদগ্র মানসিকতা থাকেনা। শুধু তাই নয়, সকল মত ও পথের লেখকদের আমন্ত্রণ করেই তারা ক্ষান্তô দেননা, লেখকদের উপস্থিতিও তারা নিশ্চিত করেন। অতীতে আমরা দেখেছি তাদের আয়োজিত অনুষ্ঠানে সবাই না হলেও লন্ডনের নবীন ও প্রবীণ কবি-লেখকদের অধিকাংশ উপস্থিত থাকেন। তাদের এ দৃষ্টান্তô বহুধা বিভক্ত বাংলাদেশের সাহিত্যকর্মীরা অনুসরণ করতে পারেন। এর সাথে জড়িত রয়েছেন তিনজন তরুণ সাহিত্যকর্মী  ৈআতাউর রহমান মিলাদ, আবু মকসুদ এবং কাজল রশিদ। তাই আলোচনার শুরুতেই আমি তাদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

সাহিত্য সমালোচনা অত্যন্তô জটিল, শ্রমসাধ্য এবং কখনো বিপজ্জনক কাজ। লেখার মানোন্নয়নে সমালোচনা সাহিত্যের গুরুত্ব অপরিসীম এবং যারা খাঁটি লেখক ও শিল্পী তারা গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানান। আমরা জানি ইংরেজ কবি টিএস ইলিয়ট তার কালজয়ী কবিতাগুচ্ছ ‘ওয়েস্টল্যান্ড’ তার কবি-বন্ধু এজরা পাউন্ডের কাছে পাঠিয়েছিলেন। এজরা পাউন্ড সেটা কাঁচি দিয়ে কেটে আকারে অর্ধেক করে দেন। বাংলা সাহিত্যেও এ রকম অনেক দৃষ্টান্তô আছে। বুদ্ধদেব বসুর রবীন্দ্রকাব্যের সমালোচনা বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। সেখানে বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথের ছন্দোগত মিলের ত্রুটি নিয়ে সমালোচনার সাহস পর্যন্তô দেখিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথের ‘সাগরজলে সিনান করি/ সজল এলোচুলে/ বসিয়া ছিলেম/ উপল উপকূলে’  ৈপ্রসঙ্গে বুদ্ধদেব বসু বলেছেন, নিছক অন্তô্যমিলের প্রয়োজনে রবীন্দ্রনাথ এখানে ‘চুলে’র সাথে ‘কুলে’ ব্যবহার করেছেন, এটা স্বাভাবিক নয়।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানি, প্রকৃতিগতভাবে কবিরা আবেগপ্রবণ প্রজাতি। তাই নিজ লেখার সমালোচনা সহ্য করা তাদের জন্যে খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। রাজনীতিবিদদের মতো তাদের গায়ের চামড়া শক্ত নয় এবং সমালোচনা সহ্য করার গরজও তাদের নেই। বাংলাদেশের এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে কাব্য-সমালোচনা করে বিব্রত হওয়ার তিক্তস্মৃতি এখনো আমাকে পীড়া দেয়। তাই আজকের আলোচনায় সকল লেখার মানগত ভালো-মন্দ চুলচেরা বিশ্লেষণে না গিয়ে মোটা দাগে কিছু কথা বলার চেষ্টা করবো।

তৃতীয় বাংলার কবিতা সংকলনে অন্তôর্ভূক্ত ২৮ জন লেখক কাব্য রচনায় প্রথাগত পদ্ধতির অনুসারী। বাংলাদেশ এবং পশ্চিম বঙ্গের অগ্রজ কবিদের প্রভাব এবং ছায়া তাদের অনেকের লেখায় সুস্পষ্ট। এ ধারার মধ্যে রয়েছেন অমরনাথ চক্রবর্তী, আব্দুল গাফফার চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, কাজল রশীদ, কাদের মাহমুদ, কিশোর নীলান্তô, গোলাম কবির, তাবাসসুম ফেরদৌস, দীনুজ্জামান চৌধুরী, ফরীদ আহমদ রেজা, ফারুক আহমদ রনি, ফয়জুল আলম বেলাল, মমতাজ জাহান করিম, মাজেদ বিশ্বাস, মাশুক ইবনে আনিস, মাসুদ আহমদ, মাসুদা ভাট্টি, মোফাজ্জল করিম, মুকুল ইকবাল, রেণু লুৎফা, শামীম আজাদ, শাহ্‌ শামীম আহমেদ, শাহ্‌ সোহেল, শিশির মজুমদার, সফিয়া জহির, সালেহা চৌধুরী, সিকদার কামাল, সৈয়দ এনাম আহমদ এবং সৈয়দ শাহীন।

শক্তিমান কবি হিসেবে মোফাজ্জল করিম, আব্দুল গাফফার চৌধুরী এবং কাদের মাহমুদের স্বীকৃতি উভয় বাংলায় রয়েছে। কাদের মাহমুদ বৃক্ষ, সাফোকের গ্রাম, রক্তটান  ৈঅত্যন্তô সুলিখিত এ তিনটি কবিতা আমাদের উপহার দিয়েছেন। বিশেষভাবে তার রক্তটান কবিতাটি বার বার পড়ার মতো। মোফাজ্জল করিমের দুটো কবিতায় বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অনাচারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আব্দুল গাফফার চৌধুরীর প্রৌঢ় প্রেম, নীলভোর এবং মশাল কি নিভে গেলো  ৈএ তিনটি কবিতা সেখানে রয়েছে। তার নীল ভোর কবিতাটি আশ্চর্য সুন্দর। মশাল কি নিভে গেলো রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে লেখা হলেও এর কাব্যমান কিছুমাত্র ক্ষুন্ন হয়নি। প্রৌঢ় প্রেম কবিতাটি পাঠ করে বিষ্ণু দে’র ‘মধ্যবয়সী’ শীর্ষক কবিতার কথা পাঠকদের মনে পড়ে যাওয়া বিচিত্র নয়। বিষ্ণু দে সেখানে বলেছেন, ‘মধ্যবয়সী, তবু তনু তোমার/ আশ্বিন-আলো ছড়ায় আমার মনে।’ আমার দৃষ্টিতে প্রৌঢ় প্রেমের শেষ দুটো লাইন শুধু অপ্রয়োজনীয় নয়, লাইনদুটো কবিতাটিকে দুর্বল করে ফেলেছে। প্রসঙ্গক্রমে এখানে অতীতে কয়েকবার বলা একটি কথা আবার বলতে চাই। আব্দুল গাফফার চৌধুরী মূলতঃ কবি। কিন্তু বাংলা সাহিত্যের জন্যে এটা দুঃখজনক যে সাহিত্য বা কবিতার ব্যাপারে তাকে অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে মনে হয়না। তিনি তার সাহিত্য প্রতিভাকে রাজনৈতিক কলাম লেখায় ব্যয় করে কালজয়ী সাহিত্য থেকে জাতিকে বঞ্চিত করছেন। আমাদের আকাঙ্খা, তিনি কবিতা ও সাহিত্যবিষয়ক লেখা উপহার দিয়ে বাংলাদেশ ও এখানকার তরুণ লেখকদের এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিবেন।

অমরনাথ চক্রবর্তীর ‘অপ্রমাণিত ধ্রুবসত্য’ এবং ‘সেখানে আপোষ নেই’ লেখা দুটো প্রতীকধর্মী ও মননশীলতার ছাপ সেখানে আছে। বয়স তাকে কাবু করতে পারেনি, একজন টগবগে তরুণের মতো দৃপ্তকন্ঠে তিনি বলেন, ‘বাঙালির সূর্যমুখী কামানগুলো অন্ধকারের কাছে কোন কালেই হার মানেনি।’ আবুল কালাম আজাদের স্পন্দন ও ব্যবধান খুবই সুখপাঠ্য। ছোট ছোট বাক্যে অত্যন্তô সুন্দরভাবে তিনি নিজের অনুভূতি পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন। কাজল রশীদের ‘মহিমার সন্ধানে’ ও ‘স্বপ্নের মৃত্যুতে’ মানবিক প্রেম এবং স্বদেশ প্রেম সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। গোলাম কবিরের ‘দেশের স্মৃতি’ ও ‘কল্যাণী’ দুটো ভিন্নধর্মী ভালোবাসার কবিতা। তাবাসসুম ফেরদৌস ‘জ্যামিতি খেলা’য় মানবিক অনুভূতিকে বিশ্লেষণ করেছেন এবং ‘ভাঙনে’ তার স্বদেশ প্রেমের প্রকাশ ঘটেছে। দ্বীনুজ্জামান চৌধুরীর ‘নিঃস্পন্দন ফিল্টার’ আধুনিক এবং উত্তর আধুনিক কবিতার সমন্বয়। ফারুক আহমদ রনির কবিতায় পরিপক্কতার ছাপ সুস্পষ্ট। তিনি ‘মৃণালিনী’, ‘অনুপ্রভ’, ‘বিষোচিহ্ন-বুধ’ এবং ‘লাজ’  ৈএ চারটি সুন্দর কবিতা আমাদের উপহার দিয়েছেন। ফয়জুল আলম বেলালের ‘স্মৃতির প্রতি প্রীতি’ কবিতায় মানবিক বিরহ ও নস্টালজিক অনুভূতি বিবৃত হয়েছে। মমতাজ জাহান করিম ‘স্বপ্নিল জীবন’, ‘সমুদ্র’ ও ‘তোমার রক্ত’  ৈএ তিনটি কবিতায় স্বদেশ প্রেম ও মানবিক প্রেম এক সাথে প্রকাশ পেয়েছে। মাজেদ বিশ্বাস একজন প্রকৃত কবি। ‘লোকটা খুউব অসুস্থ’ এবং ‘ভেতর বাড়ি রান্নাঘর’  ৈএ দুটো ভিন্ন স্বাদের সার্থক কবিতার মাধ্যমে তিনি পাঠকদের দুটো ভিন্ন জগতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা

করেছেন। মাশুক ইবনে আনিস ‘এই সব আমার মরমের কথা’, ‘বেদনা আমার বেদানার গোটা’ এবং ‘নিমাই আমার মানুষ’  ৈএ ধরণের নামকরণের মাধ্যমে পাঠকদের ভিন্নধর্মী স্বাদ দিয়েছেন। তার লেখায় অনুশীলন ও উত্তরণের ছাপ স্পষ্ট। মাসুদ আহমদের ‘দূরের ট্রেন’ প্রতীক ধর্মী কবিতা, ‘ভালোবাসা’ ও ‘অনন্য অন্বেষণে’ দুটি ভিন্ন মাত্রার ভালোবাসার গল্প। মাসুদা ভাট্টির ‘জরাজীর্ণ’, ‘২০০৪’ এবং ‘বিলম্বিত লয়ে’  ৈতিনটি কবিতাই সুখপাঠ্য। ২০০৪ কবিতায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার সুস্পষ্ট। মুকুল ইকবালের ‘ছাই কিংবা ঘুড়ি’, ‘ব্যাক টু বেসিক’ এবং ‘সময়’  ৈতিনটি কবিতায় জীবনযুদ্ধ ও ভালোবাসার গান গেয়েছেন। রেণু লুৎফা ‘অসমাপ্ত কবিতা’ শিরোনামে আমাদের পর পর চারটি কবিতা উপহার দিয়েছেন। প্রথম কবিতাটি আশ্চর্য সুন্দর। অপর তিনটিকে আরো ঘষামাজা করে সিকুয়েন্স হিসেবে সাজালে এগুলো কালজয়ী কবিতার মর্যাদা পেতে পারে। শামীম আজাদের ‘ইমপ্রিন্ট’, ‘অসামান্য ব্রিকলেন’, ‘কবির একান্তô ক্রিস্টাল’ এবং ‘দশা’  ৈএ চারটি কবিতা পড়ে পাঠকরা অবশ্যই আনন্দ পাবেন। শাহ শামীম আহমদ লিখেছেন ‘মানুষ ঈশ্বর হলে’ এবং ‘আমি আর ফিরবোনা প্রতারক শহরে’। তার লেখায় প্রতিভার স্বাক্ষর রয়েছে এবং তার লেখা পড়ে বোঝা যায় যে শব্দ নিয়ে খেলতে তিনি ভালোবাসেন। শাহ্‌ সোহেলের ‘জেলখানায় বসবাস’ একটি ব্যক্তিগত অনুভূতির কাব্যিক বর্ণনা। বিলাতের পাঠকরা অবশ্যই এর সাথে একাত্মতা অনুভব করবেন। শিশির মজুমদার একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক, তার ‘একটি নির্জন আশ্রয়’ এবং ‘দ্বন্দ্বে’ এর প্রকাশ ঘটেছে। সফিয়া জাহির খুবই ভালো লেখেন। তার ‘নেকড়ে ও বাজপাখি’ এবং ‘তোমার জন্য বুনেছি নকশী কাঁথা’  ৈদুটো ঝরঝরে কিন্তু প্রতীকধর্মী কবিতা। শেষের কবিতার কাব্যিক মান খুবই চমৎকার। সালেহা চৌধুরী বিলাতের সাহিত্য অঙ্গনে একটি নন্দিত নাম। তার ‘গাছের ভেতর দিয়ে পথ’, ‘সুরের কলিংবেল’, ‘ঈশ্বর’, ‘যৌবন ও বাঘের কথা’  ৈএ চারটি কবিতাই মননশীলতার স্বাক্ষর বহন করছে। সিকদার কামাল খুব কম লিখেন, কিন্তু তার কবিতা আশ্চর্য সুন্দর। শব্দ নিয়ে তিনি খেলতে ভালোবাসেন। ‘একজন সিকদার কামাল’, ‘মানুষ দীর্ঘজীবী হও’, ‘অন্তôর্গত উজ্জ্বল বিষাদ’, ‘প্রসারিত দু’টি হাত’  ৈএ চারটি কবিতার প্রতিটিতে বেশ কিছু উজ্জল পংক্তি রয়েছে। সৈয়দ এনাম আহমদ লিখেছেন ‘জগদল’ এবং ‘তুমিই সিদ্ধান্তô ও সিদ্ধাই’ এ দুটি ঝরঝরে কবিতা। তার কবিতার সংক্ষিপ্ত পরিসরে তিনি কাব্য, ভালোবাসা এবং সামাজিক অঙ্গীকারকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছেন। সৈয়দ শাহীন লিখেছেন দুটি কবিতা  ৈ‘স্বপ্ন, সূর্যস্নান এবং নিরুত্তর প্রশ্ন’, এবং ‘ভালবাসার পঙতিমালা’। তার দুটো কবিতাই সুলিখিত এবং কাব্য প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করছে।

যাদের লেখায় গতানুগতিক বৃত্ত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষণীয় তারা হলেন সৈয়দ মবনু, আবু মকসুদ, মুজিব ইরম, মুকিদ চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, রব দেওয়ান সৈয়দ, আতাউর রহমান মিলাদ, সুমন সুপান্থ, শামীম শাহান, আহমদ ময়েজ এবং ওয়ালি মাহমুদ। এরা সবাই বয়সে তরুণ এবং লেখালেখির ব্যাপারে সিরিয়াস। তাদের মধ্যে বাংলা কবিতাকে বহুদূর নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা লুক্কায়িত রয়েছে। গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে তাদের উৎসাহ প্রদানে প্রবীনদের এগিয়ে আসা দরকার। ইতোপূর্বে আমি এই একঝাঁক তরুণ কবি-কর্মীর মধ্যে মুজিব ইরম, ফারুক আহমদ রনি, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, শাহ্‌ সোহেল এবং সুমন সুপান্থকে বিলাতে বাংলা কবিতার পাঁচ রাজকুমার অভিধায় অভিহিত করে তাদের লেখার ব্যাপারে আমার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছি। অন্যদের নিয়ে লেখার প্রয়োজনীয়তাও এখন তীব্রতর হচ্ছে। আমার আশা ছিল প্রবীনরা এ বিষয়ে এগিয়ে আসবেন। দুয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া তরুণদের উৎসাহ দেয়ার ব্যাপারে আমাদের অগ্রজরা কেন যে মুখে কুলুপ দিয়ে বসে আছেন তা আমার বোধগম্য নয়।

সৈয়দ মবনু লিখেছেন ‘কিষানী কুমারী’ ও ‘আলোর পৃথিবী’। আবু মকসুদ লিখেছেন ‘চল সখি’ ও ‘পরিচয়’। মুজিব ইরম লিখেছেন ‘সাং নালিহুরী’। মুকিদ চৌধুরী লিখেছেন ‘ঈগলের ভয়ংকর ছোবল’, ‘তোমার গর্ভে ঘোলাটে জলের বাস্তôবতা’ এবং ‘চিরন্তôন রহস্যের অন্ধকার’। দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু চারটি সনেট লিখেছেন ‘চতুর্দশ কথা’ শিরোনামে। রব দেওয়ান সৈয়দ লিখেছেন তিনটি কবিতা, ‘ভেড়াদলের হস্তôমৈথুন’, ‘আজ পরমায়ু কমবে তোমার’ এবং ‘অস্তôাচলের ক্ষত’। আতাউর রহমান মিলাদ লিখেছেন ‘সাংসারিক কৌশল’ এবং ‘পুড়েছে আধেক জীবন’। সুমন সুপান্থ লিখেছেন ‘প্রয়াত কবির গ্রাম’, ‘ফেরা’, ‘সন্ধ্যায় বৃষ্টি এলে’ এবং ‘স্মৃতি বিষয়ক হলদে খাম - ১’। শামীম শাহান লিখেছেন ‘আমি এবং অন্য একজন’, ‘আমার পৃথিবীর মৃত্যু চাই’, ‘অদ্যাপি’ এবং ‘বেশ আছি’। আহমদ ময়েজ লিখেছেন ‘সাগ্নিক পুরম্নষ’, ‘বিমূর্ত চরণে রাখি কালের ক্ষমা’, ‘প্রবল ইচ্ছা ও একটি কালো মোষের মাথা’, ‘ঘাসকাটা ভোর’। ওয়ালি মাহমুদ লিখেছেন ‘অন্ধকারের অন্তôরবাসী’, ‘বিবেক’, ‘ধ্বস এবং অতঃপর’, ‘সংব্যান খোলার আশে’। আতাউর রহমান মিলাদ এবং আবু মকসুদের লেখায় পরিবর্তনের ছাপ পাঠকদের দৃষ্টি এড়াবার কথা নয়। সম্প্রতি তাদের লেখা আরো ধারালো ও সমৃদ্ধ হচ্ছে। সুমন সুপান্থ সফল লেখক। তার লেখায় অনুশীলন ও প্রতিভার স্বাক্ষর রয়েছে। তার ‘স্মৃতি বিষয়ক হলদে খাম’ আশ্চর্য সুন্দর একটি কবিতা। শামীম শাহান এ রকম সুন্দর কবিতা লিখেন তা আমার জানা ছিলনা। তার চারটি কবিতাই সুখপাঠ্য এবং কাব্যময়। আহমদ ময়েজ ছড়ার জগত মাতিয়ে কবিতার অঙ্গনে নতুন করে পা বাড়িয়েছেন। তার কবিতায় শব্দ প্রয়োগের বিচিত্র কৌশল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার দৃষ্টান্তô ও মননশীলতার ছাপ চোখে পড়ার মতো। সৈয়দ মবনুও কবিতায় নবাগত। তবু তার লেখায় অনুশীলন ও দক্ষতার ছাপ রয়েছে। মুকিদ চৌধুরী, রব দেওয়ান সৈয়দ, কিশোর নিলান্তô এবং ওয়ালী মাহমুদের লেখায় অধ্যবসায় ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রমাণ পাওয়া যায়।

তৃতীয় বাংলার কবিতা’র প্রচ্ছদ অঙ্কন করেছেন বাংলাদেশের নন্দিত শিল্পী ধ্রুব এষ এবং প্রকাশক প্রবাস প্রকাশনী ইউকে’র পক্ষে কাজল রশীদ। শুরুতেই কবি নির্মলেন্দু গুণ ‘তৃতীয় বাংলার কবিতা’ এবং সম্পাদক আতাউর রহমান মিলাদ ‘কথা প্রাসঙ্গিক’ শিরোনামে বহির্বিশ্বে বাংলা সাহিত্যচর্চা সম্পর্কে কিছু কথা বলেছেন। বইয়ের শেষে কবিদের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতিও সংযুক্ত রয়েছে। শেষের প্রচ্ছদে ঢাকার কবি সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল বহির্বিশ্বে বাংলা চর্চার সংক্ষিপ্ত একটি বিবরণ দিয়েছেন। বাংলাদেশের কিছু অগ্রজ কবির লেখা আমি খুঁটিয়ে পড়ি, তাদের মধ্যে পাঠক নন্দিত কবি নির্মলেন্দু গুণ অন্যতম। আমার আশা ছিল, তৃতীয় বাংলার কবিতার উপর তিনি একটা সমৃদ্ধ আলোচনা রাখবেন। আমি বিনীতভাবে বলবো, তিনি সে আশা পূরণ না করে নিছক একটা দায়সারা গোছের মুখবন্ধ লিখে দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন। নির্মলেন্দু গুণ, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল এবং আতাউর রহমান মিলাদ  ৈএ তিনজন আসলে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই কথা বলেছেন। আতাউর রহমান মিলাদ সম্পাদক হিসেবে সঙ্গত কারণেই প্রাসঙ্গিক কিছু কথা বলবেন। কিন্তু অপর দু’জনকে এখানে উপস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়নি।

আতাউর রহমান মিলাদ ‘কথা প্রাসঙ্গিক’-এ কবিতা সংকলনের পটভূমি নির্মাণ করেছেন। বিলাতে বাংলা সাহিত্যচর্চা সম্পর্কে তার মন্তôব্যের সাথে আমরা ঐকমত্য পোষণ করে বলছি, ‘সময়ের ধারাবাহিকতায় এখানে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী লেখক শ্রেনী। এখানকার সমাজ, জীবনধারা, প্রতিকূলতার সংগ্রাম  ৈএ সব উঠে আসছে লেখকদের কলমে। স্বদেশ স্মৃতি ও স্বদেশ ভাবনার পাশাপাশি এখন কবিতায়, গল্পে, প্রবন্ধে প্রবাস জীবনের সাফল্য/ ব্যর্থতার কথাও স্থান পাচ্ছে। প্রবীণ-নবীন লেখকদের পাশাপাশি বিলেতের তেলেজলে বেড়ে ওঠা প্রজন্ম যোগ হয়ে বাংলা চর্চা ভাবনার বিষয় হয়ে উঠেছে যা আমাদের আশান্বিত করে।’

আমরা অবশ্যই আশাবাদী এবং বলবো, সে আশার আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছে তরুণদের সাহসী উচ্চারণ থেকে। এক সময় শুধু ঢাকা এবং কোলকাতা-ই ছিল বাংলা কবিতা চর্চার প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু বর্তমানে বাঙালির মতো বাংলা কবিতার চর্চাও পৃথিবীর সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। বাংলা কবিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে লন্ডন এবং নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাঙালি জনগোষ্ঠী এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছেন। তাদের জন্যেই ইংরেজী সাহিত্যের এ দুটো কেন্দ্র এখন বাংলা সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যাদের ত্যাগ, পরিশ্রম, কবিতার প্রতি ভালবাসা এবং অঙ্গীকারের কারণে লন্ডন ও নিউইয়র্ক বাংলা কবিতা চর্চার প্রাণবন্তô কেন্দ্র হতে চলেছে তারা অবশ্যই আমাদের স্যাল্যুট পাওয়ার যোগ্য।

অবশ্য বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সাথে ইংরেজ জাতি এবং ইংরেজি সাহিত্যের একটা ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। শুধু রাজা রামমোহন রায় অথবা মাইকেল মধুসূদন দত্ত-ই নয়, তিরিশ দশকের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কবি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কবিতাকে সর্বপ্রথম প্রথাবদ্ধতার বন্ধন থেকে মুক্ত করেন। এর প্রভাবে হিন্দী, উর্দু, গুজরাটি ও মারাঠি সাহিত্যেও পরিবর্তন এসেছে। রবীন্দ্রনাথের এক সময়ের সচিব অমিয় চক্রবর্তী শুধু ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন না, তিনি টমাস হার্ডির ‘ডাইনেস্টস’ এবং যুদ্ধোত্তর ইংরেজী কাব্য নিয়ে অফোর্ডে গবেষণা করেছেন। পাশ্চাত্য কাব্য ভাবনার সাথে বাংলা কাব্য ভাবনার সংযোগ স্থাপনে অমিয় চক্রবর্তীর অবদান অনস্বীকার্য। অমিয় চক্রবর্তী পরবর্তীতে আমেরিকায় প্রবাস জীবন বরণ করে নেন এবং সেখানে ইংরেজি ভাষাভাষী লোকদের ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষা দেন। তিরিশের অপর প্রধান কবি বিষ্ণু দে প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজির অধ্যাপক ছিলেন। সুধীন দত্ত, জীবনান্দ দাশ, বুদ্ধদেব বসু  ৈএরা সবাই ইংরেজী সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন। বুদ্ধদেব বসু ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ইংরেজি সাহিত্যে তিনি প্রথম বিভাগে প্রথম হন। সুধীন দত্ত ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্যের অধ্যাপক। তিরিশের এ সকল কবি বাংলা কাব্য জগতকে পাশ্চাত্য কাব্য ভাবনার আধুনিক জগতের সাথে পরিচিত করেছেন। হপকিন্‌স, ইয়েট্‌স, এজরা পাউন্ড, জেসম জয়েস, টি এস ইলিয়ট প্রমুখকে আধুনিক ইংরেজি কাব্য জগতের প্রধান পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাদের কাব্যে আবার ফরাসী ইমেজিস্ট বা প্রতীকী কবিদের প্রভাব খুবই লক্ষণীয়ভাবে এসেছে। ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের সাথে বিশ্ব সাহিত্যের সংযোগের ফলেই বাংলা সাহিত্যে নতুন চেতনা জাগ্রত হয়েছে। বিশ্ব সাহিত্যের সাথে আমাদের এ সংযোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ জন্যেই ঢাকা ও কোলকাতার অনেক কবিকন্ঠে আমরা এর কিছুটা প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। অনুসন্ধিৎসু পাঠক তৃতীয় বাংলার কবিতায় এর প্রভাব অবশ্যই প্রত্যক্ষ করবেন।

বিলাতের বাইরে আয়ারল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যচর্চা হয়। আজকাল ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজেই সকল দেশের কাব্য ভাবনার সাথে পরিচিত হওয়া যায়। আমরা লক্ষ্য করলে দেখবো বর্তমান সময়ের কবিরা ভাষা এবং কবিতার শরীর নিয়ে অনবরত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চলেছেন। পাশ্চাত্য সাহিত্য আধুনিকতা পেরিয়ে এখন আধুনিকোত্তর মহাপ্রান্তôরে দাঁড়িয়ে ব্যক্তি, সমাজ এবং চতুর্পাশ্বে বিরাজমান যাবতীয় বস্তুসামগ্রীকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করছে। বাংলা ভাষার আধুনিকতা সম্পর্কে অনেকের মধ্যে এক সময় উন্নাসিকতা ছিল। আধুনিকোত্তর সাহিত্যের ব্যাপারেও একই প্রক্রিয়ায় উন্নাসিকতা থাকবে। কিন্তু সময় কারো জন্যে অপেক্ষা করবেনা। সাহিত্য, চিত্রকলা প্রভৃতি শিল্পে কোন বিশেষ একটি প্রকাশরীতি বা আঙ্গিক অনেক দিন পর্যন্তô ব্যবহৃত হলে এর আবেদন ফুরিয়ে যায়, ফুরিয়ে যেতে বাধ্য। সে আঙ্গিক ও প্রকাশরীতি তখন নতুন চৈতন্য বহন করার উপযোগিতা হারিয়ে ফেলে। বহুল ব্যবহারের ফলে পাঠকদের কাছে তা গতানুগতিক হয়ে পড়ে। পুরাতন ভাবের অনুষঙ্গে ভারাক্রান্তô প্রকাশরীতি ও দৈহিক অবয়ব পাঠকদের কাছে দুর্লভ সামগ্রী বলে বিবেচিত হয়না। তাই শিল্প-সাহিত্যের মাধ্যমে যারা অমরত্বের সাধনা করেন তারা পরিবর্তিত সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের চৈতন্য ও অনুভবকে প্রকাশ করার জন্যে অভিনবত্বের অন্বেষণ করেন।

বিশ্ব সাহিত্যের বিভিন্ন অঙ্গনে যে ঝড় উঠেছে এর প্রভাবে আমাদের কাব্য ও শিল্প আন্দোলিত হবে, এটাই স্বাভাবিক। আমাদের কবিতার ভাষা, আঙ্গিক বা প্রকাশভঙ্গিতে অবশ্যই পরিবর্তন আসবে। উদারতার সাথে আমাদের সে পরিবর্তনকে স্বাগত জানানো দরকার। হোমার, দান্তেô, ভার্জিল, শেপিয়র, কিট্‌স, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ সকলেই অভিনবত্বের সাধনা করেছেন। সবাই জীবনবোধের কথা বলেছেন, অনুভবের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। একই কথাকে যুগে যুগে নানা কবি নতুন ব্যঞ্জনায় এবং নতুন ভঙ্গিমায় উপস্থাপন করেছেন। নতুনত্বের সাধনাকে কখনো আধুনিকতা এবং কখনো উত্তর আধুনিকতা বললেও মূল কথা কিন্তু একই  ৈঅভিনবত্বের সাধনা।

পরিশেষে একটি কথা বলবো। আমরা বিশ্ব কবিতা আন্দোলনের সাথে সংযোগ স্থাপন করবো কিন্তু বাংলার মাটিকে, বাংলার ঐতিহ্যকে ভুলে গিয়ে বা উপেক্ষা করে নয়। আমার মতে, বাংলা সাহিত্যে জীবনান্দ দাশ হচ্ছেন প্রথম উত্তর আধুনিক কবি। কিন্তু তার অপরাধ ছিল, ‘বাংলার মুখ ভুলে খাঁচার ভিতরে নষ্ট শুকের মতন’ তিনি দিন যাপন করেননি। তিনি বলেন

বহুদিন কীর্তন ভাসান গান রূপকথা যাত্রা পাঁচালির

নরম নিবিড় ছন্দে যারা আজো শ্রাবণের জীবন গোঙায়

আমারে দিয়েছে তৃপ্তি; কোনদিন রূপহীন প্রবাসের পথে

বাংলার মুখ ভুলে খাঁচার ভিতরে নষ্ট শুকের মতন

কাটাইনি দিন, মাস, বেহুলার খুল্লনার মধুর জগতে

তাদের পায়ের ধুলো মাখা পথে আমি যে বিকায়ে দিয়েছি মন

বাঙালি নারীর কাছে - চালধোয়া স্নিগ্ধ হাত, ধানমাখা চুল

হাতে তার শাড়িটির কস্তôাপাড়, ডাঁশা আম, কামরাঙা ফুল।

তাই আমরা অভিনবত্বের সাধনা করবো শেকড়কে ধারণ করে, শেকড়হীন পরগাছা হিসেবে নয়। আমাদের পূর্বসুরীদের সমৃদ্ধ গৌরব-গাঁথা ও সাহিত্য-কীর্তি নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক জটিলতার কারণে বিশ্বের কাছে তো বটেই, আমাদের নিজেদের কাছেই এখনো অনাবিস্কৃত বা অনুদঘাটিত রয়ে গেছে। আমি এ কথা দেখতে পেয়ে পুলকিত যে বাংলাদেশের অনুসন্ধিৎসু তরুণদের অনেকে এখন বাংলাদেশের শেকড়ের প্রতি সন্ধানী দৃষ্টি নিক্ষেপ করছেন। তাদের কলমের সতেজ আঁচড়ে আমাদের গৌরবোজ্জল ঐতিহ্য নতুন ভাষা পেয়ে বাঙময় হয়ে উঠছে।

কামনা করি, অভিনবত্বের এ সাধনায় আমাদের তরুণ কবিদের জয় হোক।

লন্ডন ২৯ এপ্রিল ২০০৬